Home LATEST NEWS BANGLA ‘হতাশা থেকেই ট্রাম্পের চুক্তি’- মন্তব্য মোজতবা খামেনির, নৌ-অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

‘হতাশা থেকেই ট্রাম্পের চুক্তি’- মন্তব্য মোজতবা খামেনির, নৌ-অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

2
0

Source : BBC NEWS

অবরোধ তুলে নেওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে

ছবির উৎস, ISNA/WANA/Reuters

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক মাধ্যম এক্সে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, “প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী” অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ “সাধারণ এলাকায়” অবস্থান করবে।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন যে, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দেওয়া “ইরান জাতির অধিকার রক্ষার” আশ্বাসের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন।

যদিও এ বিষয়ে নিজের “ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি” রয়েছে বলে উল্লেখ করলেও তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি মোজতবা খামেনি।

খামেনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প “হতাশার কারণেই সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করে” এই চুক্তিটি করিয়েছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ভবিষ্যতে “সরাসরি আলোচনা” হলেও, এর অর্থ এই নয় যে তারা “শত্রুর অবস্থান মেনে নিয়েছেন”।

এই প্রথম চুক্তির বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, মার্চ মাসে দায়িত্ব নিলেও তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

খামেনির বক্তব্যের সরাসরি কোনো জবাব না দিলেও, সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন যে, তিনি আশা করছেন ইসরায়েল ও লেবাননের ইরান-সমর্থিত হেজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধসহ “সব ফ্রন্টে” যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো “আমাদের আলোচনার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যার মধ্যে রয়েছে- হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার বাধ্যবাধকতা এবং দেশটির ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন- যদিও এই তহবিলে অর্থ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ওপর বাধ্যবাধকতা নেই।

চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষই ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ছবির উৎস, EPA

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান বিবিসিকে জানিয়েছে যে, সমঝোতা স্মারকটি অনলাইনে স্বাক্ষর হয়ে যাওয়ায় অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।

অবশ্য মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা পরবর্তী আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে দেখা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার রাতে দেশ ছাড়ছেন না।

এর আগে হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে এবং ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শুরু হয়েছে। তিনি নিজে “কারিগরি আলোচনার” জন্য সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তবে তিনি এটি নিশ্চিত করেননি যে, ঠিক কবে নাগাদ তিনি সেখানে পৌঁছাবেন। মি. ভ্যান্স বলেন, ইরান থেকে বের হওয়া “সহজ নয়” এবং তারা “ঠিক কখন এটি হতে পারে তা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছেন।”

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যত দ্রুত সম্ভব কারিগরি আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী।

এদিকে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের জন্য পুনর্গঠন তহবিলের সংস্থান রাখার বিষয়ে চরম অসন্তুষ্ট রিপাবলিকানরা।

রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই চুক্তিকে “কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈদেশিক নীতি সংক্রান্ত ভুল” বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, “ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমন করা যায়নি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে হুমকি দেওয়া কতটা কার্যকর সেটিও তারা শিখেছে”।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Getty Images

বৃহস্পতিবার এই চুক্তির পক্ষে সাফাই দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন যে, ইরান যদি চুক্তির শর্ত পূরণ না করে, তবে তারা কোনো অর্থ পাবে না বা নিষেধাজ্ঞা থেকেও মুক্ত হতে পারবে না।

তিনি জানান, ‘মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ অনুযায়ী, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংস করতে হবে এবং এ অঞ্চলে কোনো প্রক্সি গোষ্ঠীকে অর্থায়ন না করার প্রমাণও দিতে হবে।

ভ্যান্স ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও সমালোচনা করে বলেন, তাদের “বাস্তবতাকে বুঝতে শেখা উচিত।”

“আমি যদি ইসরায়েলি সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তবে বিশ্বের বুকে আমার একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকে আক্রমণ করতাম না,” সাংবাদিকদের বলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচকে এই চুক্তির সমালোচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- আপনাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কী? আপনারা নব্বই লাখ মানুষের একটি দেশ। আপনারা চাইলেই সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান কেবল শক্তি প্রয়োগ বা হত্যার মাধ্যমে করতে পারবেন না”।

নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার জোর দিয়ে বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটন ইসরায়েলের পাশে “কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে” দাঁড়িয়েছিল। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।

তবে চুক্তি ঘোষণার পরও ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহ একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার লেবাননে চালানো হামলায় তিন জন নিহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

ইসরায়েলের দাবি, হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চেয়ে আলাদা। হেজবুল্লাহও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েলকে এই শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে হবে, যা তাদের জন্যই ভালো। বৈরুতে বেসামরিক নাগরিক হত্যা “অগ্রহণযোগ্য” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।