ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি হাই কোর্টের কাছে একটি ব্যস্ত সংযোগস্থলে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নের কাজে বিপজ্জনক বিলম্ব নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া আল্টিমেটাম দিয়েছে। পদক্ষেপের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আদালত সতর্ক করেছে, ২৫ নভেম্বরের মধ্যে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় স্থানীয় কাজ সম্পন্ন করতে হবে—নচেৎ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
—
## বেঞ্চ যা বলেছে
শুক্রবারের শুনানিতে তীব্র ভাষায় বেঞ্চ বলেছে, “আপনারা কাজটি না করলে আমরা দু’জনেই (সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ) দিল্লি হাই কোর্টের মূল ফটকে অবস্থান নেব এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফিরব না। এটা নিশ্চিত। আপনাদেরও বাড়ি যেতে দেব না।” মন্তব্যটি কিছুটা রসিকতার সুরে করা হলেও, আমলাতান্ত্রিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বেঞ্চের অধৈর্যতা এতে স্পষ্ট হয়েছে।
—
## সমস্যা
মামলাটি দিল্লি হাই কোর্টের কাছের মথুরা রোডের সংযোগস্থলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিকে কেন্দ্র করে। উত্থাপিত সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে অপর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব।
—
## সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং আদালতের প্রত্যাশা
শুনানির সময় অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল (ASG) আদালতকে জানান, সমস্যাটি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন বলে জানান।
তবে অস্পষ্ট দায়িত্ব ও ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি নিয়ে আদালত সংশয় প্রকাশ করে। সঠিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং নির্দিষ্ট উন্নয়নের সুপারিশের জন্য আদালত অ্যামিকাস কিউরি—একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ—কে现场 পরিদর্শনে যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়।
এছাড়াও, বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে শুধু রিপোর্ট দাখিল করলেই আর চলবে না। আদালত “মাঠপর্যায়ের কাজ”-এর দাবি জানায় এবং নির্দেশ দেয়, পরবর্তী শুনানির মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যেন পরিমাপযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে হয়।
—
## সময়সীমা এবং জবাবদিহি
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ২৫ নভেম্বরের নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নির্দেশ পালন করতে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী শুনানিতে চিফ সেক্রেটারিকে ASG-র সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
—
## এখন এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
দিল্লি যখন ইতিমধ্যেই অন্যান্য নাগরিক সমস্যা নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখোমুখি, তখনই আদালতের এই উদ্যোগ এসেছে। দীর্ঘদিনের জনপরিকাঠামো উন্নয়নের বিলম্ব নিয়ে হতাশার প্রেক্ষাপটে “ধর্নায় বসার” বিষয়ে আদালতের তীক্ষ্ণ, এমনকি নাটকীয় সতর্কবার্তা সেই অসন্তোষকে আরও জোরালো করেছে।
প্রশ্নে থাকা সংযোগস্থলটি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসর, যেখানে প্রতিদিন যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল একত্রিত হয়। দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করা, কার্যকর জেব্রা ক্রসিং স্থাপন, ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ এবং বিপজ্জনক অংশগুলোর পুনর্বিন্যাসের মতো পদক্ষেপ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই ধরনের হস্তক্ষেপই দেখতে চায়।
—
## সামনে কী
২৫ নভেম্বর বিষয়টি আবার সুপ্রিম কোর্টের তালিকায় উঠবে। কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারে কি না, নাকি এটি আরও একটি আইনি নাটকে পরিণত হবে—সেদিকেই এখন সবার নজর। আদালত স্পষ্ট করেছে, তারা স্বচ্ছতা, পদক্ষেপ এবং সরাসরি জবাবদিহি চাইবে।
দ্রুত এবং দৃশ্যমান পরিবর্তন না হলে দিল্লির এই সংযোগস্থলটি অনিরাপদই থেকে যাবে—তবে সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসায়, আমলাদের ওপর সমীক্ষা থেকে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার চাপ আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি। এখন কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে, সামনের পথটি যেন—আক্ষরিক অর্থেই—নিরাপত্তায় পাকা হয়।
This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.
