Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, EPA
Published
পড়ার সময়: ৪ মিনিট
ইউক্রেন ব্রিটেনে নির্মিত ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়া্য় হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মস্কোর। যুক্তরাজ্য “সচেতনভাবে ইউক্রেন সংকট আরও তীব্র করার পথ বেছে নিয়েছে” বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া।
যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, “এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্য রক্তক্ষয়ী অপরাধ এবং সন্ত্রাসী হামলার অংশীদার ও সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “লন্ডনের এই পদক্ষেপের অনিবার্য পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।”
এই সংঘাতে লন্ডন যত বেশি জড়িয়ে পড়বে, “তাদের তত বেশি চড়া মূল্য দিতে হবে” বলেও সতর্ক করা হয়।
এর জবাবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বিবিসি নিউজকে জানান যে, ব্রিটেন ইউক্রেনের পাশে “দৃঢ়ভাবে” রয়েছে।
ওই মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য এবং আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় এই সরকারের দৃঢ় সংকল্প সম্পর্কে রাশিয়ার কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাজ্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে রক্ষার্থে তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিতে “প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।
দুটি পৃথক ব্রিটিশ কোম্পানির তৈরি এই ড্রোনগুলো রাশিয়ার ভেতরে বিভিন্ন শোধনাগার এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর গুদামসহ বিভিন্ন সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
রাশিয়ার অ্যামাজন নামে পরিচিত এই কোম্পানিটিকে ইউক্রেন বারবার লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং জানিয়েছে যে, ওয়াইল্ডবেরিজের শীর্ষ ১০টি লজিস্টিক সেন্টারের মধ্যে ৭টিই “অকার্যকর” করা হয়েছে।
এক সামরিক সূত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় যুক্তরাজ্যের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হামলায় সাড়ে ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে এবং বর্তমানে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
ছবির উৎস, AFP via Getty Images
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানিয়েছেন যে, রস্তোভ অঞ্চলের কামেনস্কি জেলার একটি জ্বালানি ডিপোসহ রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালাতে ব্রিটিশ উপাদান ও কনফিগারেশনযুক্ত ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে মস্কো যুক্তরাজ্যকে এই সতর্কবার্তা দিল। সর্বশেষ সোমবারের এক হামলায় এক শিশুসহ ৯ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।
আঞ্চলিক গভর্নরের মতে, গত শনিবার রাতে ইউক্রেন রাশিয়ার দিকে প্রায় ৮২২টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে ৬০০টির লক্ষ্য ছিল মস্কো।
তিনি জানান যে, রুশ রাজধানী “নিকট অতীতের সবথেকে বড় ড্রোন হামলার” শিকার হয়েছে। রাশিয়া জুড়ে সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
একই রাতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ৩৯ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এর আগে এপ্রিলে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সর্ববৃহৎ প্যাকেজের অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার স্ট্রাইক ডিভাইসসহ দশ হাজারেরও বেশি ড্রোন সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছিল।
ব্রিটিশনির্মিত ড্রোন এই প্রথম রাশিয়ার ভেতরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
দুটি পৃথক ব্রিটিশ কোম্পানির তৈরি এই ড্রোনগুলো রাশিয়ার মূল ভূখন্ডে সামরিক ও শিল্প স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে শোধনাগার এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামও রয়েছে।
ছবির উৎস, Reuters
এর আগে সংঘাতে ব্রিটিশ নির্মিত ‘স্টর্ম শ্যাডও’ মিসাইল ব্যবহৃত হলেও, বর্তমান এই নতুন পর্যায়টি অনেক বেশি কার্যকর প্রভাব ফেলছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এর আগে জানিয়েছিলেন যে, রস্তোভ অঞ্চলের কামেনস্কি জেলার একটি জ্বালানি ডিপোসহ রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালাতে যুক্তরাজ্যের উপাদান ও কনফিগারেশনযুক্ত ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন যে, “পুতিনের অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
“এর মধ্যে রয়েছে- চলতি বছরে এক লাখ ৫০ হাজার এর বেশি ড্রোন, রুশ বিমান নিরাপত্তাকে বাধাগ্রস্ত করার মতো অত্যাধুনিক ‘স্টোন ক্লোয়াক’ ডিভাইস এবং কম খরচের উদ্ভাবনী ক্রুজ মিসাইল।”
গত রোববার মস্কোর মেয়র জানিয়েছিলেন যে, রাতারাতি শহরটির দিকে প্রায় ছয়টি ইউক্রেনীয় ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ ধ্বংস করা হয়েছিল এবং তিনজন আহত হয়েছিলেন।
কিয়েভ সেসময় জানিয়েছিল যে, তারা রুশদের সামরিক সরঞ্জাম কেনার লজিস্টিক হাবগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং রুশ সেনাবাহিনীর সরবরাহ ব্যাহত করছে।




