Home LATEST NEWS BANGLA পত্রিকা: ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাওয়া নিয়ে যত আলোচনা’

পত্রিকা: ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাওয়া নিয়ে যত আলোচনা’

4
0

Source : BBC NEWS

পত্রিকা

Published

পড়ার সময়: ৯ মিনিট

বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় প্রাধান্য পেয়েছে মক্কা চুক্তির খবর, চীন থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান কেনা, হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লির অচলাবস্থা, রংপুরের মার্ডার কেস এবং সার নিয়ে কৃষকের ভোগান্তির খবর।

আলোচনায় মক্কা চুক্তি। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া এই চুক্তি কূটনৈতিক দুনিয়ায় আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা এই জোটে বাংলাদেশ যাবে কিনা তা নিয়েও উৎসুক কয়েকটি দেশ।

প্রতিরক্ষা এই জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ইতিবাচক। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

গত ৭ই আগস্ট মক্কায় অবস্থিত মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। ধর্মীয় দিক থেকে এই চুক্তির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এই চুক্তিকে মুসলিম দেশগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে ধরতে বার হিসেবে শুক্রবার এবং স্থান হিসেবে মক্কাকে বাছাই করা হয়েছে। এদিকে চুক্তিটিকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছে জোটভুক্ত দেশগুলো।

মানবজমিন
কালের কণ্ঠ

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে জোট ও মেরুকরণ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এখন আলোচনায়।

এই জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির আওতায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কূটনীতিকদের মতে, বাংলাদেশ এই কাঠামোয় যুক্ত হলে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এর বিপরীতে কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়া, আঞ্চলিক রাজনৈতিক মেরুকরণের অংশ হয়ে যাওয়া এবং প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরির ঝুঁকিও রয়েছে।

নিউ এইজ

নিউ এইজ পত্রিকার খবর- Govt considers open-pit coal mining again অর্থাৎ সরকার আবারও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কথা ভাবছে।

ফুলবাড়ীতে বহুজাতিক একটি কোম্পানির কয়লা খনন প্রকল্প ঠেকাতে ২০ বছর আগে রক্তাক্ত আন্দোলন হয়েছিল। সেই ঘটনার দুই দশক পর বাংলাদেশে আবারও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২০০৬ সালের ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডির ২০তম বার্ষিকীতে আজ স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন ও আন্দোলনকারীরা নতুন করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। ওই বছরের আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হন।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমির নিচ থেকে কয়লা উত্তোলনের যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে তারা আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। একই সঙ্গে পরিবেশ ও দেশের অর্থনীতি রক্ষার অঙ্গীকারও করেছেন তারা।

সম্প্রতি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিগত কিছু পদক্ষেপে দিনাজপুরে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন শিল্পকারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক পরিবারেও খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে।

২০০৬ সালের ফুলবাড়ী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ মঙ্গলবার বলেন, সরকার হয়তো ভাবতে পারে যে মানুষ নীরব হয়ে গেছে, কিন্তু আসলে তারা নীরব হয়নি। তার এই মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হলে নতুন করে আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে।

ফুলবাড়ীর সেই রক্তাক্ত আন্দোলনের দুই দশক পরও কয়লা উত্তোলন নিয়ে পরিবেশ, মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষার প্রশ্নটি তাই আবারও সামনে এসেছে।

আজকের পত্রিকা

মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যা ও সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার ৯ বছর পূর্তিতে কক্সবাজারের উখিয়ায় সমাবেশ করেছেন লাখো রোহিঙ্গা।

মঙ্গলবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) আয়োজিত এই সমাবেশে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবির থেকে বিভিন্ন বয়সী রোহিঙ্গারা অংশ নেন।

‘নাইন ইয়ারস গন, টেন মিনিটস ফর রোহিঙ্গা’ স্লোগানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা নিজ জন্মভূমি রাখাইনে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যাওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, ২০১৭ সালের সহিংসতার নয় বছর পরও স্বজন হারানোর বেদনা, ঘরবাড়ি হারানোর কষ্ট এবং নিজ দেশে ফিরতে না পারার হতাশা রোহিঙ্গাদের মধ্যে রয়ে গেছে।

রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিক বলেন, তারা নয় বছর ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং নিজেদের দেশে ফিরতে চান। তিনি রোহিঙ্গাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

ইউসিআরের প্যানেল সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ বাংলাদেশ সরকারের মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। তবে প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ। শুধু সীমান্ত পার করে ফেরত পাঠানো নয়, ফিরে যাওয়ার পর নিরাপত্তা, অধিকার, নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার নিশ্চয়তাও প্রয়োজন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউসিআর নেতা মাস্টার শোয়েব বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা ভয় ও অনিশ্চয়তা ছাড়াই নিজেদের জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারেন।

সমকাল

চীন থেকে চতুর্থ প্রজন্মের ২০টি জে-১০সিই বহুমাত্রিক যুদ্ধবিমান কিনছে সরকার। এ জন্য চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ। বিমানগুলো কিনতে ব্যয় হবে ২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। আট বছরের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো বিমানবাহিনীর এক চিঠিতে যুদ্ধবিমানগুলোর দাম, প্রশিক্ষণ ও পরিবহন সরঞ্জামের খরচসহ বিস্তারিত জানানো হয়েছে। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের দাম পড়বে প্রায় ৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসেবে ২০টি বিমানের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে আরও প্রায় ৮৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১০ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, চীন থেকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

জে-১০সিই ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার জন্য গঠিত কমিটি একাধিক সমঝোতা বৈঠকের পর খসড়া চুক্তি তৈরি করে তা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানগুলোর প্রশিক্ষণ ও পরিবহন ব্যয়ও এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। বিমানগুলো বগুড়ায় রাখার জন্য বিমানঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

বণিক বার্তা

আমন ধানের মৌসুমকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলায় সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘাটতি নেই বলে আশ্বস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্রের কথা বলছেন কৃষক।

প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহে ভোগান্তির পাশাপাশি কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত চার ধরনের সার ইউরিয়া, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও মিউরেট অব পটাশ (এমওপি)—সবক’টির মজুদই নির্ধারিত নিরাপদ সীমার নিচে।

যদিও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, সারের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রয়েছে। আমদানির মাধ্যমে নিয়মিতই সার আসছে, বিভিন্ন এলাকায় বরাদ্দ ও বিতরণ করা হচ্ছে এবং আরো কিছু সারবাহী জাহাজ পথে রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংকট তৈরির আশঙ্কা নেই বলে তাদের দাবি।

প্রথম আলো

গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য খুন হওয়ার অন্তত ১৮টি ঘটনা ঘটেছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৭ জন। কোনো ঘটনায় পরিবারের দুজন, আবার কোনো ঘটনায় তিন, চার কিংবা পাঁচজন সদস্য নিহত হয়েছেন।

সম্প্রতি রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যার ঘটনা এবং গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা শাহিনুর বেগম ও তাঁর তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা সামনে এনেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরে একই পরিবারের একাধিক সদস্য হত্যার আলাদা কোনো পরিসংখ্যান নেই। সাতটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে ১৮টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিভিন্ন কারণ সামনে এসেছে। কোনো ঘটনায় জমি বা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, কোনো ঘটনায় মাদকের সম্পৃক্ততা এবং কোনো ঘটনায় দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের কথা জানিয়েছে পুলিশ। আবার কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে একসঙ্গে হত্যার ঘটনা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে। ঘটনাগুলোর ধরন আলাদা হলেও এর পেছনে সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতা, মাদকের সহজলভ্যতা এবং নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার মতো কিছু অভিন্ন কারণ রয়েছে।

বিশেষ করে ভয়ংকর মাদকের বিস্তার মাদকাসক্তদের মধ্যে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

টাইমস অফ বাংলাদেশ

সরকারের চলতি ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শেষের পথে। এর মধ্যেই বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়া এবং সরকারি সংগ্রহে নানা অনিয়মের অভিযোগে কৃষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ধানের সরকারি সংগ্রহমূল্য বাড়ানো হয়নি। অথচ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

সরকার ৩১ আগস্টের মধ্যে ৫ লাখ টন ধান প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং ১ লাখ টন আতপ চাল ৪৮ টাকা কেজি দরে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সরকারি দরে এক মণ ধানের দাম হওয়ার কথা ১ হাজার ৪৪০ টাকা। কিন্তু দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাজারে ধানের দাম ১ হাজার টাকার নিচে নেমে গেছে, কোথাও আবার সামান্য বেশি রয়েছে।

এদিকে কয়েকটি জেলার কৃষক অভিযোগ করেছেন, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ঘুষ দাবি করেছেন, তালিকাভুক্ত কৃষকদের পরিবর্তে অন্যদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছেন এবং আরও নানা অনিয়ম করেছেন।

বেশিরভাগ জেলায় এরই মধ্যে সরকারি ধান সংগ্রহ শেষ ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু এলাকায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই ধান কেনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারি নির্ধারিত দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক কৃষক।

দেশ রূপান্তর

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের কৃষক রুহুল আমিন সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করে প্রায় ৬০ মণ ধান উৎপাদন করেন। বাজারে তিনি ধান বিক্রি করেন প্রতি মণ ১ হাজার ১২০ টাকা দরে। কিন্তু অভিযোগ, তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একটি চক্র সরকারি গুদামে দুই টন ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছে।

ঘটনার আগে ২৪ মে রুহুল আমিনের নামে সোনালী ব্যাংকের কোটচাঁদপুর শাখায় একটি নতুন ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। তাকে একটি চেকে স্বাক্ষর করিয়ে সেই চেক নিয়ে নেন তাঁর প্রতিবেশী আব্দুর রহমান। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীও ছিলেন। ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় রুহুল আমিনের হাতে মাত্র ১ হাজার টাকা দিয়ে চেকটি নিয়ে যাওয়া হয়।

রুহুল আমিনের দাবি, তিনি জানতেন সরকারের একটি লটারিতে তাঁর নামে ১ হাজার টাকা এসেছে, সেটি তুলতেই ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে। অথচ তাঁর অজান্তেই তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কৃষি অফিসে সরকারি ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধন করা হয় এবং লটারিতে তাঁর নামও আসে।

পরে অনুসন্ধানে উঠে আসে, তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থায় দুই টন ধান বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। ফলে কৃষকের অজ্ঞতা ও সরকারি ধান সংগ্রহ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র কীভাবে লাভবান হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নয়া দিগন্ত

চলতি বছরের শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরের জন্য নয়াদিল্লি ও ঢাকা নীরবে পরিকল্পনা করছিল, কিন্তু দিল্লিতে শেখ হাসিনার সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন সেই চেষ্টা ভেস্তে দেয়।

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বরফ গলানোর প্রক্রিয়া মূলত ভারতের মাটিতে হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দেশটিতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে স্থবির হয়ে পড়েছে। ভারতে আশ্রিত হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য এবং ভিডিও কনফারেন্স ঢাকায় তীব্র অসন্তোষ তৈরি করে।

বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিক এবং বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্কের মূল বাধা শুধু হাসিনাকে ফিরিয়ে দেয়া বা প্রত্যর্পণের প্রশ্ন নয়, বরং ভারতের মাটি থেকে তার রাজনৈতিক বিবৃতি এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দেয়া।

ঢাকা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এ ধরনের তৎপরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ঢাকা হাসিনাকে ফেরত চাইলেও দিল্লি বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল আইনি প্রক্রিয়ায় ঠেলে দিয়ে নিজস্ব আইনি ও বিচারিক পদ্ধতি অনুসরণ করছে।

তবে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের আলোচনা এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে। ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে উভয় দেশই দীর্ঘস্থায়ী বিচ্ছিন্নতা এড়াতে আগ্রহী।

এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এবং একটি ইতিবাচক ধারায় সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের নেতৃত্বকে পারস্পরিক স্বার্থ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।