Home LATEST NEWS BANGLA পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন দেখছে সরকার

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন দেখছে সরকার

5
0

Source : BBC NEWS

২০২৬ সালের নভেম্বর ঢাকায় উচ্চতর ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে পোশাকশ্রমিকরা একটি সড়ক অবরোধ করে

শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুর ও সাভার ও পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় রোববার বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এসময় শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

সকাল থেকে বিক্ষোভ চলাকালে মিরপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় পোশাক কারখানায় ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সকালে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের একটি গাড়িতে আগুনও দেয় বিক্ষোভকারীরা।

সংঘর্ষের সময় মিরপুরে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া গাজীপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবিও মাঠে নামে।

তখন ওইসব এলাকায় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুরও চালায় বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী ছয় সদস্যবিশিষ্ট মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এই সংকট সমাধানে সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে রোববার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রীসহ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “এটা ক্লিয়ার আওয়ামী ফ্যাসিজমের লোকেরা ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব জিনিসে লিপ্ত হয়েছে। সেজন্য পোশাক খাতে উৎপাদন যাতে ব্যহত না হয়, যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয় এদিক থেকে সকলকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী”।

পোশাক শ্রমিকদের কেউ কেউ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের পরও পোশাক খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা নিয়ে উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এবং তৈরি পোশাক প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আইনের ১৩ এর ১ ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য পোশাক কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হবে মালিকরা”।

এদিকে, ঢাকার মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ রাকিব খান।

পোশাক খাতের চলমান এই অস্থিরতা নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ের কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া দেয় বিক্ষোভকারীরা

প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক

রোববার দিনভর সংঘর্ষ ভাঙচুরের পর পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতা নিয়ে সন্ধ্যার পর সচিবালয়ে জরুরি বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, সংসদ সদস্য ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “দাবি যেটা ছিল মজুরি বোর্ড সেটা তো হয়ে গেছে। কাজেই এখন যাতে উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, পোশাক খাতে যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, আর এটা যেটা করতেছে, এটা তো ক্লিয়ার যে, আওয়ামী ফ্যাসিজমের এরা ডিসেম্বরকে সামনে রেখে তারা এসব জিনিসে লিপ্ত হয়েছে। কাজেই এদিকে সকলকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিছে।”

রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, “বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেই আমরা মোকাবেলা করবো,”।

প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে অবহিত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান তিনি।

পরে আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, “নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির ইন্ধন যোগাচ্ছে”।

মি. আহমদ বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি শ্রমিক-মালিকদের আলোচনায়ই সমাধান করা যেত। কিন্তু এখানে সহিংস আন্দোলন করার কোনো কারণ ছিল না। এই সহিংসতায় মুখোশধারী ব্যক্তিরা আন্দোলনে ঢুকে গেছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

“আমাদের কাছে যে সমস্ত তথ্য আছে, তাতে আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি, নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন যোগাচ্ছে যাতে করে এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়,” বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মিরপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে

নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন

রোববার সকাল থেকেই ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে যখন বিক্ষোভ চলছিল তখন পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা আসে সরকারের কাছ থেকে।

এই নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান এই বোর্ডের প্রধান।

এই বোর্ডের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন।

আর নিরপেক্ষ প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।

এই বোর্ডের একজন সদস্য বিবিসি বাংলাকে জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যে বোর্ড গঠন করা হয়েছে সেখানে তাকে রাখা হয়েছে বলে শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে তাকে জানানো হয়েছে। তবে এরচেয়ে আর বেশি কিছু তিনি জানেন না।

রোববার সকালে সচিবালয়ে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ বন্ধ করে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি এ সময় জানান, বোর্ডের সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাধীনভাবে পারস্পরিক আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি উপযুক্ত মজুরি নির্ধারণ করবেন।

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “শ্রমিকেরা বলছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা। সরকার একটি বোর্ড গঠন করেছে। আমরা চাই এই বোর্ড সব পক্ষের কথা বিবেচনায় রেখে যেটাকে যৌক্তিক মনে করবে সেরকম একটা মজুরি তারা নির্ধারণ করুক”।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে জরুরি বৈঠকও করে বিজিএমইএ। বৈঠক শেষে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “পোশাকশিল্পে চলমান বিশৃঙ্খলা ও কারখানা ভাঙচুর বন্ধ না হলে মালিকরা আর কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে না”।

বিক্ষোভ চলাকালে মিরপুর থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়

‘মালিকদের কাছ থেকে চাপ আসছে’

নিম্নতম মজুরির দাবিতে আন্দোলন ঘিরে যে বিক্ষোভ, সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে সেটিকে একেবারেই স্বাভাবিক ভাবছেন না তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএ ও বিকেএমইএ।

এ নিয়ে রোববার বিভিন্ন মালিকদের সাথে বৈঠক করেছে এই দুইটি সংগঠনের নেতারা।

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন, হঠাৎ তৈরি পোশাক খাত যে অশান্ত হয়ে উঠছে তার পেছনে মূল কারণ মজুরি নয়, এটি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “প্রকৃত শ্রমিকরা এই আন্দোলনে নেই। যদি থাকতো তাহলে প্রথম দিনই এটা বন্ধ হয়ে যেত। এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে। সেই উদ্দেশ্য সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে”।

তিনি দাবি করেন, গত কয়েকদিন ধরেই এই আন্দোলন চলছে। সেখানে বিভিন্ন কারখানাগুলোতে বহিরাগতরা হামলা চালাচ্ছে।

মি. হাতেম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এখন পর্যন্ত একশোর মতো কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের সমস্ত ফ্যাক্টরি ১৩ এর ১ ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করতে বাধ্য হবে মালিকরা। মালিকরা এটা নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত। আমরা কেন গাইডলাইন দিচ্ছি না সেটা নিয়ে মালিকরা চাপ দিচ্ছে”।

তবে শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির যে দাবি সেটিকেও যৌক্তিক মনে করছেন না পোশাক মালিকরা।

বিকেএমইএ’র সভাপতি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “২০১৩-২০২৩ সাল পর্যন্ত তিন দফায় মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরপর যদি ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি করতে হয় তাহলে অনেক কারখানাই বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ এই পরিমাণ মজুরি অনেক মালিকই দিতে পারবেন না”।

সন্ধ্যায় এ নিয়ে বৈঠক করে বিজিএমইও। বৈঠক শেষে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

সেখানে তিনি বলেন, “বোর্ড গঠিত হবে সেই ম্যাসেজ আগেই দেয়া হয়েছিল। তারপরেও বিভিন্ন জায়গায় এই বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছে, ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর করা হয়েছে, কাজ করতে দেওয়া হয় নাই। আমাদের মেম্বাররা এটা নিয়ে কনসার্ন”।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে তাহলে পোশাক মালিকরা জানিয়েছেন তারা আর কারখানা চালু রাখতে পারবে না।

কারখানায় কাজ করছেন নারী শ্রমিক

সকাল থেকেই বিক্ষোভ-সংঘর্ষ-ভাঙচুর

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে আসছিল পোশাক শ্রমিকরা।

এর ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে ঢাকার মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, সাভারের আশুলিয়া এলাকায় বিক্ষোভে নামে পোশাক শ্রমিকরা।

সকালে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে মিরপুরের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় বিক্ষোভে নামে। এসময় পুলিশের সাথে দফায় দফায় সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে শ্রমিকদের।

সকাল ১১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বরে মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষ থামলে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এসময় ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে আটকের কথা জানায় পুলিশ। এর মধ্যে অন্তত ১১জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি।

ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, “সামনে পোশাক শ্রমিক তার পেছনে এমন ১০০ থেকে দেড়শো জনকে আমরা ফলো করছিলাম যার পেছনে ছিল। তারা প্রথম ইসিবি চত্ত্বর থেকে মিরপুর ১০ নম্বর পর্যন্ত চলে আসলো। পরে আবার মিরপুর ১২ নম্বর। সেখান থেকে আমরা বেশ কয়েকজনকে ধরেছি”।

তিনি বলেন,`যাদের করা হয়েছে তাদের কারো বাড়ি কক্সবাজার কারো বাড়ি পটুয়াখালী, বরগুনা, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলায়। তাদের কেউ পোশাক কারখানার কর্মী নয়। তাদের ফোনসহ বিভিন্ন কিছু যাচাই করে তারা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি”।

এদিকে সকাল থেকেই গাজীপুরের কোনাবাড়ি, কালিয়াকৈর, আশুলিয়াসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকরা সকাল থেকে রাস্তায় নামে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক-পুলিশ দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।

উত্তেজিত শ্রমিকরা বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর চালায়, আগুন দিয়েছে পুলিশ বক্সে, ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি গাড়িও। কয়েক ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধও ছিল।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বিবিসি বাংলাকে জানান, সকাল থেকে সংঘর্ষ শুরুর পর বিকেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ শুরুর পর গাজীপুরে একশোরও বেশি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়। অন্তত ১০-১৫ কারখানায় ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা।

তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরকে চিহ্নিত করতে কাজ করছে পুলিশ।