Home LATEST NEWS BANGLA ‘ল্যান্ড জিহাদ’ বন্ধে আইন করতে চান শুভেন্দু অধিকারী, মুসলমানরাই কি নিশানায়?

‘ল্যান্ড জিহাদ’ বন্ধে আইন করতে চান শুভেন্দু অধিকারী, মুসলমানরাই কি নিশানায়?

4
0

Source : BBC NEWS

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী - ফাইল ছবি

ছবির উৎস, Debajyoti Chakraborty/NurPhoto via Getty Images

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, ধর্মান্তকরণ ও জমি কেনাবেচায় বিধিনিষেধ আনা এখন তার পরবর্তী লক্ষ্য। এই কথার মাধ্যমে তার আগের ঘোষণা – ‘ল্যান্ড জিহাদ বন্ধ করব’ মন্তব্যের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন অনেকেই।

মঙ্গলবার, ১১ই অগাস্ট বাঁকুড়ায় নতুন গঠিত পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সেখান থেকে তিনি নিজের কাজের একটি সংক্ষিপ্ত খতিয়ান দিয়ে বলেন, “ওবিসির অবৈধ তালিকা বাতিল করে দিয়েছি, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা বন্ধ করে দিয়েছি, গোমাতার সম্মান রক্ষা করেছি। মহরম হয়েছে, কিন্তু তলোয়ার বার করতে দিইনি। শুধু দুটো কাজ বাকি, ধর্মান্তরকরণ ও জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে আইন আনা, আমি এই বিষয়ে কাজ করছি।”

ধর্মান্তকরণ বিরোধী আইন ও জমিসংক্রান্ত আইন শুভেন্দু অধিকারীর কোনো বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়। ১৫ই এপ্রিল ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে বার্তা দিয়েছিলেন যে, তাদের ভাষায়, লাভ জিহাদ ও ল্যান্ড জিহাদকে নিষিদ্ধ করা হবে।

এছাড়াও, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ও আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মুখেও কথিত ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ কথা দুটি একাধিকবার উঠে এসেছে।

যদিও এক্ষেত্রে শাসকদল বিজেপির বক্তব্য যে, জনবিন্যাস বদলে যাওয়া রুখতে এই আইন প্রয়োজন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই আইন শুধু মেরুকরণকেই উসকে দেবে না, বরং অর্থনীতিরও ক্ষতি করতে পারে।

উত্তরখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি - ফাইল ছবি

ছবির উৎস, x/@pushkardhami

‘ল্যান্ড জিহাদ’ কী?

বিবাহ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে হিন্দু নারীদের ইসলামে ধর্মান্তকরণ করা হচ্ছে বলে বিজেপিসহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বেশ কয়েক বছর ধরে অভিযোগ তুলছে। মুসলমান যুবকরা এই কাজ করছে বলেও তারা অভিযোগ তুলে থাকে। যদিও ‘লাভ জিহাদ’ -এর মতো কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি কখনওই।

কথিত লাভ জিহাদ নিয়ে ২০১৮ সালে হাদিয়া মামলার রায়টি গুরুত্বপূর্ণ। কেরালার অখিলা নামের এক তরুণী বাড়ির অমতে বিয়ে করেন ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হাদিয়া নাম নেন। তখন পরিবারের তরফে ‘লাভ জিহাদে’র অভিযোগ ওঠে।

কেরালা হাইকোর্ট হাদিয়াকে নিজের বাবা মায়ের তত্বাবধানে থাকার নির্দেশ দেয়।

কেরালা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে একটি আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে যে, নিজের পছন্দের ধর্ম ও জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার হাদিয়ার আছে।

তবে ‘ল্যান্ড জিহাদ’ কী, এর কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা পাওয়া যায়নি। তবে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির পোস্ট করা একটি রিলে কিছুটা আভাস পাওয়া যায় যে ‘ল্যান্ড জিহাদ’ শব্দটি দিয়ে কিসের ইঙ্গিত করা হচ্ছে।

ওই বার্তায় তিনি বলেন, “সরকারি জমি জবরদখল করে বানানো কাঠামো ভেঙে আমরা ৬৫০০ একরের বেশি সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করেছি এবং এভাবে আমরা ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন রোধ করছি।”

ওই বার্তায় তিনি মুখে ল্যান্ড জিহাদ কথাটির উল্লেখ না করলেও, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ওই রিলের টাইটেলে লেখা আছে, “ডিসাইসিভ অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট ল্যান্ড জিহাদ” অর্থাৎ, ‘ল্যান্ড জিহাদের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ’।

ওই রিলে যখন মুখ্যমন্ত্রীর অডিও ক্লিপ বাজছে, তখন দেখানো হচ্ছে বুলডোজার দিয়ে কথিত অবৈধভাবে নির্মিত মসজিদ ভাঙার দৃশ্য। ফলে এটা পরিষ্কার যে এই শব্দটির লক্ষ্যবস্তু মূলত মুসলমান সমাজ এবং এর উদ্দেশ্য হলো জনবিন্যাসের কথিত পরিবর্তন রোধ।

নির্বাচনের আগে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আসামের জনবিন্যাস পরিবর্তনের জন্য সরাসরি আসামের ‘মিয়া মুসলমান’ বা বাংলাভাষী মুসলমানদের দায়ী করেছিলেন। ‘ল্যান্ড জিহাদ’ রোধ ছিল তার অন্যতম বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা - ফাইল ছবি

ছবির উৎস, ANI

ডানপন্থি ভাবধারার সমর্থক বলে পরিচিত রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ঝন্টু চিক বরাইক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “অনেক সময়ে দেখা যায় যে, আদিবাসী মহিলাকে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করার ফলে আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত জমির মালিকানা বেহাত হয়ে যাচ্ছে। এভাবে জনবিন্যাসে ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “হিন্দু সংস্কৃতি ধর্মীয় অনুশাসনের দিক থেকে কঠোর নয়, বরং অনেকটাই উদার। এর সুবিধা নিয়ে হিন্দুরাই অধিক পরিমাণে ধর্মান্তরিত হচ্ছে, যেমনটা ঘটেছে কেরালা ও ভারতের উত্তর পূর্ব অংশে।”

অধ্যাপক চিক বরাইকের মতে, জনবিন্যাস পরিবর্তন হলে সমাজে অস্থিরতা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি দেখা যায়। ফলে এই সিদ্ধান্ত কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।

জুন মাসে সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চ্যাটার্জীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার ভাষায় ‘ল্যান্ড জিহাদ’ রুখবেন বলে মন্তব্য করেন। তার দুই সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই বাঁকুড়ায় তিনি ‘জমি কেনাবেচা নিয়ে বিধিনিষেধ’ আইন আনবেন বলে ঘোষণা করেন।

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির গবেষক ও প্রাবন্ধিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য অবশ্য মনে করেন, শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য তার হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে অনুকরণ করার আরেকটা প্রয়াস মাত্র এবং দেশের মুখ্য আলোচ্য বিষয়গুলো থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

একসঙ্গে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও শুভেন্দু অধিকারী

ছবির উৎস, x/@Dev_Fadnavis

পশ্চিমবঙ্গেও আসাম মডেল অনুসৃত হবে?

শুভেন্দু অধিকারী যে হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে তার ‘বড় ভাই’ বলে মনে করেন, এই কথা তিনি নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে প্রকাশ্যেই বলেছেন।

জনবিন্যাস, অনুপ্রবেশকারী, ‘পুশ ব্যাক’ বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধিসহ নানা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের সঙ্গে আসাম সরকারের পদ্ধতিগত মিল দেখছেন বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

আসামে ২০২৫ সালে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার জমি কেনা-বেচা সংক্রান্ত একটি আইন পাশ করে। সেখানে বলা হয়, যে কোনো ধর্মের মানুষ যদি অন্য ধর্মের মানুষের কাছে কোনো জমি বিক্রি করতে চান, তাহলে স্থানীয় প্রশাসন প্রথমে ক্রেতার পরিচয় ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করে তবে অনুমোদন দেবে।

আসামের আইনটিতে নির্দিষ্টভাবে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ চাপানো না থাকলেও, এই আইন আনার পেছনে ল্যান্ড জিহাদ ও ডেমোগ্রাফি পরিবর্তনকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন তিনি।

এছাড়াও সদ্য আসাম বিধানসভায় পাশ হয়েছে ‘আসাম ভূমি ও রাজস্ব (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’, এই বিলটি ২৫০ বছরেরও বেশি পুরনো ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে জমি কেনা নিয়ে একাধিক বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে।

এই সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে জমি কেনার জন্য ক্রেতাদের প্রমাণ করতে হবে যে, পহেলা জানুয়ারি ২০০৬ পর্যন্ত তাদের পরিবার বিগত তিন প্রজন্ম ধরে সেখানে একটানা বসবাস করে আসছে।

শুভেন্দু অধিকারীর জমিসংক্রান্ত নতুন আইন এলে আসামের সাম্প্রতিক আইনগুলোর সঙ্গে এর মিল থাকতে পারে বলে মনে করেন স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য।

এই প্রসঙ্গে আইনজীবী ও বামপন্থী নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বিবিসিকে বলেন, “আগে (আইন) আনুক তো, সংবিধান বিরোধী কোনও আইনই পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে দেওয়া হবে না।”

স্পষ্টতই তিনি রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের দিকেই ইঙ্গিত করছেন। সম্প্রতি বিতর্কিত গুন্ডা দমন বিলের বিরুদ্ধেও তিনি আইনি লড়াইতে যাবেন বলেছিলেন। যদিও এই গুন্ডা দমন বিলটি এখনো রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি।

বিবিসি বাংলাকে স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, “বর্তমানে দেশে তারুণ্যের অস্থিরতার মধ্য দিয়ে বার বার দেশের অর্থনৈতিক ইস্যুগুলি সামনে যত উঠে আসছে, তত এই সাম্প্রদায়িক ইস্যুগুলোকে সামনে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”

রমজান উপলক্ষ্যে কলকাতার জাকারিয়া স্ট্রিটের মেলায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ - ফাইল ছবি

ছবির উৎস, LightRocket via Getty Images

মুসলমানদের জন্য কি চিন্তার বিষয়?

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাদ মাহমুদ মনে করেন যে এটি শুধু মুসলমানদের জন্য চিন্তার বিষয় নয়।

“একজন হিন্দু যদি তার একটি জমি ১২ লাখ টাকায় বিক্রির জন্য মুসলমান ক্রেতা পান, তবে শুধুমাত্র আইনি ঝামেলার কারণে সেটি ১০ লাখ টাকায় একজন হিন্দু ক্রেতাকে বিক্রি করতে বাধ্য হতে পারেন, যার ফলে জমির দাম বৃদ্ধির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যহত হতে পারে। আবার একই জিনিস মুসলমানদের সঙ্গেও হতে পারে।”

অধ্যাপক ঝন্টু চিক বরাইকের মতে, “জনবিন্যাসের ভারসাম্য হারিয়ে গেলে তা রাজনৈতিক পালাবদলকে ত্বরান্বিত করে।”

এই প্রবণতা আটকাতে এই আইনকে প্রয়োজনীয় বলে ব্যাখ্যা করলেও তার মতে সাধারণ মুসলমানদের বিরোধী নয় এই আইন। বরং, তার কথায়- অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করাই এর উদ্দেশ্য।

যদিও, ২০২৫ সালে যখন আসামে জমি সংক্রান্ত আইনটি পাশ হয়েছিল, তখন আসামের গুয়াহাটিতে রয়্যাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও উত্তরপূর্ব ভারতের ইতিহাস বিশেষজ্ঞ সজল নাগ ডেকান হেরাল্ড পত্রিকায় একটি প্রবন্ধে তার মতামত ব্যক্ত করে লিখেছিলেন যে, আসামের মতো সংবেদনশীল উত্তর পূর্বের রাজ্য, যেখানে ‘আইডেন্টিটি পলিটিক্স’ অত্যন্ত ব্যাপক, সেখানে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এই উসকানিমূলক আইন আনা হয়েছে।

তার মতে, এই রকমের আইন ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে ধর্মীয় মেরুকরণকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়ক হবে।

আসামের ইতিহাস সম্পর্কে বিবিসি বাংলার সঙ্গে একটি পূর্ব কথোপকথনে তিনি এনআরসি ও অন্যান্য এরকম মুসলমানদের সঙ্গে জড়িত আইনের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, “এই সব প্রচেষ্টার একটাই উদ্দেশ্য, সেটা হলো নিছক হেনস্থা।”

পাখির চোখে রাতের কলকাতা

ছবির উৎস, Debajyoti Chakraborty/NurPhoto via Getty Images

প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতিতে

আসামে জমি সংক্রান্ত এই আইন বলবৎ হওয়ার পরে এক বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও এমন কোনো খবর নজরে আসেনি, যেখানে কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু ব্যক্তি বা সংগঠনকে জমি কিনতে প্রশাসনের তরফে বাধা দেওয়া হয়েছে।

তবে আসামের কিছু স্থানীয় সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ জমি বিক্রয় করার ক্ষেত্রে একই ধর্মের ক্রেতার খোঁজ করছেন।

ড. মাহমুদ মনে করেন, সমগোত্রীয় আইন পশ্চিমবঙ্গে চালু হলে জমির দামের উপর প্রভাব পড়তে পারে এবং পশ্চিমবঙ্গে অত্যন্ত লাভজনক শিল্প রিয়েল এস্টেট এক্ষেত্রে ধাক্কা ক্ষেতে পারে।

“বিজেপি সরকার বিশ্বায়ন চাইছে যার জন্য বহু বিল্ডিংয়ের উচ্চতা সীমাবদ্ধ করার আইনটিও সংশোধন করা নিয়ে আলোচনা চলছে, এক্ষেত্রে অবাধে জমি কেনবেচার ক্ষেত্রে ধর্ম একটি সীমাবদ্ধতা হয়ে উঠলে বিজেপি সরকারের মুক্ত বাজারপন্থি নীতিই ধাক্কা খাবে।”

এছাড়াও ড. মাহমুদের মতে মুক্ত বাজার অর্থনীতির আরেকটি প্রধান বিষয় হলো কাজ ও অর্থনৈতিক উন্নতির উদ্দেশ্যে মানুষের এক জায়গা ছেড়ে অন্য জায়গায় বসবাস করা বা বাসস্থান তৈরির স্বাধীনতা এই আইনের ফলে বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে।

তবে পশ্চিমবঙ্গেও এই আইনের পেছনে ধর্মীয় মেরুকরণের আভাস থাকবে বলে মনে করলেও এর প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হবে, সেই পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুত আইনের খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পরেই হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সমাজতত্ব গবেষক।