Home LATEST NEWS BANGLA সমঝোতা চুক্তি থেকে কী পেল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র?

সমঝোতা চুক্তি থেকে কী পেল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র?

4
0

Source : BBC NEWS

রৌদ্রোজ্জ্বল সন্ধ্যায় দুটি পাহারের মাঝখানে হরমুজ প্রণালিতে নোঙর করা একটি তেলবাহী ট্যাংকার। ১৭ই জুনের ছবি

ছবির উৎস, Anadolu via Getty Images

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলা শুরু হওয়ার ১০০ দিনেরও বেশি সময় পর, উভয় পক্ষই বিজয় দাবি করছে। এর মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ প্রত্যেকের জন্যই কতটা প্রয়োজন ছিল।

একটি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে লড়াই শেষ করেছে বটে, কিন্তু কঠিনতম আলোচনা এখন শুরু হবে।

দুপক্ষই তাদের জনগণের কাছে এই চুক্তিকে সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু এখানে আমাদের বিশ্লেষকেরা যেমন ব্যাখ্যা করেছেন, কেউই নিজের দেশে এই বিজয়ের বিষয়টি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করাতে পারেনি এবং উভয় পক্ষের দেশীয় সমালোচকেরা বলছেন– অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে।

তেহরানে একটি দেয়ালচিত্রের সামনে দিয়ে হাঁটছেন একজন নারী, যেখানে টেবিলে বসে কথাবার্তা বলছেন দুইজন ব্যক্তি। ১৮ই জুনের ছবি

ছবির উৎস, Anadolu via Getty Images

ইরানের জন্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি যুদ্ধবিরতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় দেয়। আত্মসমর্পণ না করেও যুদ্ধে টিকে থাকাই শুধু নয়, বরং আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার দাবি করার একটি সুযোগ এটি।

শুরু থেকেই, প্রচলিত সামরিক অর্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পরাজিত করা তেহরানের মূল লক্ষ্য ছিল না। বরং লক্ষ্য ছিল সংঘাত থেকে এমন অবস্থায় বেরিয়ে আসা, যাতে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র অক্ষত থাকে, নেতৃত্ব কার্যকর থাকে এবং তাদের দরকষাকষির অবস্থান পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে।

এই চুক্তি– যেটিকে মূলত বলা হচ্ছে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), এটি ইরানকে বলার সুযোগ করে দিয়েছে যে যে তারা তা অর্জন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পৃথকভাবে স্বাক্ষরিত এই দলিলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে সব ফ্রন্টে সামরিক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ, লেবাননসহ সার্বভৌমত্বের পারস্পরিক সম্মান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের তাৎক্ষণিক দায়বদ্ধতাগুলো উল্লেখযোগ্য হলেও তুলনামূলকভাবে সীমিত।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ বাণিজ্যিক চলাচল নিশ্চিত করতে সহায়তা, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না– এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিগুলো তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত।

এমওইউ অনুযায়ী, ওয়াশিংটন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার শুরু করবে, ইরানি তেল রপ্তানির জন্য ছাড় দেবে, ইরানের জব্দ বা নিয়ন্ত্রিত করে রাখা সম্পদ উন্মুক্ত করবে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে অগ্রসর হবে এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ইরোনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেবে।

এতে বোঝা যায় কেন ইরানের সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত তুলনামূলক নীরব। ইরানের নেতৃত্বকে চুক্তিকে সাফল্য হিসেবে উপস্থাপনের মতো যথেষ্ট উপাদান দিয়েছে এই সমঝোতা; যেমন- সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি, অবরোধ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা এবং পুনর্গঠন তহবিলের উল্লেখ।

তবে এই নীরবতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াও ছিল সাবধানতার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ। তিনি চুক্তি এগোতে দেন, তবে স্পষ্ট করেন যে এটি গ্রহণ করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বে।

ইরানের পতাকা তুলে ধরে আছেন একজন নারী

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

যুদ্ধের দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো স্থগিত রাখা হয়েছে, সমাধান হয়নি। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধকরণের পরিমাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর পুনর্গঠন এখন আলোচনায় তীব্র চাপের বিষয় হবে।

এর ফলে তেহরানের নেতৃত্বের জন্য এক ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম, রেভল্যুশনারি গার্ড কোর, পার্লামেন্ট ও কট্টরপন্থি ব্যক্তিত্বরা সপ্তাহের পর সপ্তাহ তাদের সমর্থকদের বলে এসেছেন যে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পরাজিত করেছে। প্রত্যাশা এখন অনেক উঁচু।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক অবকাঠামো নিয়ে যে কোনো সমঝোতাকে সমালোচকেরা বিজয় ঘোষণার পর দেওয়া ছাড় হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।

কিন্তু কোনো সমঝোতা না করাও সমান ঝুঁকিপূর্ণ। যদি তেহরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে এগোতে অস্বীকার করে, তাহলে প্রক্রিয়াটি ভেঙে পড়তে পারে এবং যুদ্ধবিরতিও চাপের মুখে পড়তে পারে।

তাহলে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সেই মতকে জোরদার করবে যারা মনে করে ইরান শুধু সময় নেওয়ার জন্যই এই সমঝোতা চুক্তিতে ব্যবহার করেছে এবং এতে উভয় পক্ষ আবার যুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আলোচনাকে দৃঢ় ভঙ্গিতে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলেন, “আমি কূটনীতিক নই, কিন্তু আমি ভালো করেই জানি কীভাবে আমেরিকাকে বোঝাতে হয়”।

মোজতবা খামেনির প্রতিক্রিয়া সেই কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তিনি বলেন, নীতিগতভাবে তার “ভিন্ন মতামত” আছে, তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে ইরানের ও তার মিত্রদের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব নেওয়ায় তিনি এমওইউ অনুমোদন করেছেন।

এই ভাষা তাকে এক এক অবস্থানের কাছাকাছি রাখে– যাতে চুক্তি এগোতে পারে, আবার ব্যর্থ হলে সম্পূর্ণ দায় এড়ানোর মতো দূরত্বও রাখে।

ইরানের আলোচকদের জন্য এতে সমঝোতার সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। তাদের ওয়াশিংটনকে সন্তুষ্ট করতে হবে, আবার এমনও দেখাতে পারবে না যে তারা নেতার পুরোপুরি সমর্থন নেই এমন সীমা অতিক্রম করেছে।

গালিবাফের ভাষা যতটা ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে, ততটাই দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রোতাদের জন্যও। আবার রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক এই কমান্ডারকে এমন একটি কট্টরপন্থি গোষ্ঠির কাছে চুক্তিকে গ্রহণযোগ্য করতে হচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস নিয়ে গভীরভাবে সন্দিহান।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে তুলনাও এড়ানো যায় না।

ওয়াশিংটনে কেউ কেউ এমওইউকে আগের চুক্তি– জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ), সেটির চেয়েও খারাপ বলে তুলে ধরতে পারেন। তারা এই যুক্তি দেন যে ট্রাম্প এমন একটি কাঠামো মেনে নিয়েছেন যা কঠিন পারমাণবিক প্রশ্নগুলো স্থগিত রেখে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অর্থনৈতিক সুবিধা দিচ্ছে।

তেহরানে বিপদটি ভিন্ন। কট্টরপন্থিরা সরকার ও আলোচক দলকে ২০১৫ সালের তথাকথিত ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ পুনরাবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করতে পারেন, যখন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছিলেন।

পেজেশকিয়ান ও গালিবাফের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো– প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়ে ওঠার আগেই যুদ্ধবিরতির কাঠামোকে রাজনৈতিক সাফল্যে রূপ দেওয়া।

ইরান সময় পেয়েছে, তাৎক্ষণিক সামরিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে এবং বড় অর্থনৈতিক সুবিধার সম্ভাবনা পেয়েছে। পাশাপাশি তারা ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য দাবিকৃত ফলাফল, সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ– সেটা এড়াতে পেরেছে।

তবে চূড়ান্ত চুক্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

স্বল্পমেয়াদে এমওইউ ইরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করে, কারণ রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকে গেছে এবং ওয়াশিংটন দৃশ্যমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ঝুঁকি হলো, আগামী ৬০ দিনে দেশের ভেতরে দাবি করা বিজয়ের চিত্র এবং যুদ্ধ এড়াতে প্রয়োজনীয় সমঝোতার মধ্যে ফাঁকটি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধের প্রথম অধ্যায় থেকে ইরান প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালীভাবে বেরিয়ে এসেছে, কিন্তু পরবর্তী চ্যালেঞ্জটি আরও কঠিন হতে পারে, আপসকে যেন ছাড় বা পরাজয় মনে না হয়– এভাবে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তিকে সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো।

১৭ই জুন প্যারিস অরলি বিমানবন্দরে পৌঁছে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Reuters

চুক্তিকে ‘বড় সাফল্য’ বলছেন ট্রাম্প, ছাড় বেশি দেওয়া হয়েছে দাবি সমালোচকদের

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি “বড় সাফল্য” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যা তার মূল যুদ্ধলক্ষ্য– ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা– সেটা শেষ পর্যন্ত পূরণ করে বলে তিনি মনে করেন।

আরও তাৎক্ষণিক একটি ‘সাফল্য’ হলো হরমুজ প্রণালি খোলার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় জনমত জরিপে বারবার উঠে এসেছে যে, জ্বালানির উচ্চ দামের কারণে এবং যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আমেরিকান জনগণ ক্রমশ ক্ষুব্ধ হচ্ছিল।

অর্থনৈতিক অসন্তোষ ছিল ২০২৪ সালে ভোটারদের ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনার প্রধান কারণগুলোর একটি। তবে প্রেসিডেন্টের শুরু করা যুদ্ধ তাদের আর্থিক অবস্থায় প্রভাব ফেলছে—এই ধারণা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হয়ে উঠছিল।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী না হলেও, এই অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন সময় তৈরি করে, কারণ তাদের অনেকেই ক্ষুব্ধ ভোটারদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন।

এই প্রেক্ষাপটে, চুক্তিটি ট্রাম্পকে কিছুটা স্বস্তি দেয় এবং তার মিত্রদের আশা– তিনি নিজেকে এমন একজন হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন, যিনি দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি চলতে থাকা সংঘাত পরিস্থিতি এড়িয়েছেন।

তবে চুক্তির সমালোচকেরা, রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের কিছু অংশসহ, ইতোমধ্যেই অভিযোগ তুলেছেন যে ট্রাম্প অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল থেকে ইরানের উপকার পাওয়ার প্রতিশ্রুতি।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে না। এটি ভুয়া সংবাদ। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আছে শুধু সাফল্য, তেলের কম দাম এবং বিজয়”।

যদিও ট্রাম্প ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা বলেছেন, এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবে না, তবুও দলটির ভেতরে অস্বস্তি রয়েছে।

হোয়াইট হাউজ

ছবির উৎস, Getty Images

টেক্সাসের সেনেটর টেড ক্রুজ বলেন, “ইতিহাস আমাদের শেখায়, যারা আমাদের হত্যা করতে চায়, এমন ধর্মতান্ত্রিক উন্মাদদের বিলিয়ন ডলার দেওয়া ভালো ধারণা নয়। আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট খুব খারাপ পরামর্শ পাচ্ছেন”।

রক্ষণশীল বিশ্লেষক টাকার কার্লসন আরও সরাসরি বলেন, “এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ অপমানজনক পরাজয়। এটি একটি পরাজয়”।

উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রশাসনকেও স্বীকার করতে হয়েছে যে তাদের কয়েকটি যুদ্ধলক্ষ্য এমওইউতে আর উল্লেখই নেই।

সংঘাতের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে পুরো শিল্পকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবে।

একইভাবে, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়ে এমওইউতে কোনো উল্লেখ নেই, যদিও মার্চে ট্রাম্প বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করতে কাজ করছে যেন ইরান বিদেশে বাহিনীকে অস্ত্র, অর্থ ও নির্দেশনা দিতে না পারে।

এখন প্রশাসন সেই লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি “কিছুটা জটিল” হয় এবং মাঝেমধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে।

এটি একাই সেই রিপাবলিকানদের কাছে চুক্তিটিকে অজনপ্রিয় করে তুলতে পারে, যারা ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিকে অটুট হিসেবে দেখে।