Source : BBC NEWS

বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল দেখে উদ্বিগ্ন এক নারী।

ছবির উৎস, Getty Images

ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দ া তানিয় া রহমান দুই সন্তানের মা । স্বাম ী একট ি বেসরকার ি প্রতিষ্ঠান ে চাকর ি করেন, তিন ি নিজ ে গৃহিণী । সংসারের মাসিক খরচের হিসাব রাখত ে হয় তাকেই।

সাম্প্রতিক সময় ে গ্যাস ও যাতায়াত খরচ বেড় ে যাওয়ায় এমনিতেই চাপ ে রয়েছ ে পরিবারটি । এর মধ্য ে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ায় মিজ রহমান ভাবছেন, এ মাস ে তার বিদ্যুৎ বিল কত আসবে?

” আমার বাসায় বিদ্যুৎ বিল প্রায় হাজার চারেক টাক া আসে । কিন্ত ু এখন নাক ি এই বিল আরও বাড়বে । এই বাড়ত ি টাক া আসব ে কোথ া থেকে? আমাদের আয় ত ো বাড়েন ি”, বলছিলেন তিনি।

তার মত ো অনেক গ্রাহকের মনেই এখন একই প্রশ্ন, নতুন মূল্যহার ে তাদের বিল কত বাড়বে?

তব ে এই প্রশ্নের উত্তর জানত ে হল ে প্রথম ে বুঝত ে হবে, আপনার বাসায় প্রত ি মাস ে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

কারণ বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ কর া হয় মূলত এই ইউনিটের ওপর ভিত্ত ি করে । এব ং অন্যদিকে, আবাসিক ে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বাড়ত ি দাম প্রত্যাহার করেছ ে সরকার।

বিদ্যুতের ‘ ইউনিট’ বলত ে ক ী বোঝায়?

বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্র ে সবচেয় ে বেশ ি ব্যবহৃত শব্দগুলোর একট ি হল ো ‘ ইউনিট’।

সহজভাব ে বলত ে গেলে, এক ইউনিট বিদ্যুৎ মান ে ঘণ্টায় এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার।

অর্থাৎ, আপনার বাসায় যদ ি এক হাজার ওয়াট ক্ষমতার কোন ো বৈদ্যুতিক যন্ত্র এক ঘণ্ট া চলে, তাহল ে সেট ি এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করবে । একইভাবে, ১০০ ওয়াটের একট ি বাল্ব ১০ ঘণ্ট া জ্বলল ে কিংব া ৫০ ওয়াটের একট ি ফ্যান ২০ ঘণ্ট া চললেও সমপরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হবে।

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুল ো এই ইউনিটের হিসাবের ভিত্তিত ে গ্রাহকের বিল নির্ধারণ কর ে থাকে।

বিদ্যুতের লাইন

ছবির উৎস, Getty Images

কত ইউনিট ব্যবহার করছেন, কীভাব ে জানবেন?

আপন ি কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, ত া জানত ে হল ে প্রথম ে মিটারের রিডি ং বুঝত ে হবে।

বিদ্যুৎ মিটারের ডিসপ্লেত ে মোট ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ কিলোওয়াট-ঘণ্ট া হিসেব ে দেখান ো হয় । নতুন মিটার বসান ো হল ে শুরুত ে রিডি ং সাধারণত শূন্য থাকার কথা।

কিন্ত ু ওই মিটার যেহেত ু সংশ্লিষ্ট সংস্থাক ে পরীক্ষ া করত ে হয়, তখন তাত ে ১৫-২০ ইউনিট উঠ ে যেত ে পারে । আবার অনেকসময় মিটার এক জায়গ া থেক ে এন ে অন্য জায়গায় লাগাত ে হয়।

তখন হয়ত ো কারও বাড়ির মিটারের রিডি ং শুরুই হয় ১০ হাজার থেকে । কিন্ত ু এত ে সমস্য া নেই।

যত বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে, মিটারের সংখ্য া তত বাড়ত ে থাকবে । আর মাস শেষ ে বর্তমান রিডি ং থেক ে আগের রিডি ং বাদ দিয় ে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার ব া ইউনিট নির্ধারণ কর া হয়।

উদাহরণস্বরূপ, যদ ি গত মাস ে মিটারের রিডি ং ১২ হাজার ২০০ ইউনিট থাক ে এব ং বর্তমান ে ত া ১২ হাজার ৫০০ ইউনিট দেখায়, তাহল ে ওই সময় ে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ৩০০ ইউনিট।

মূলত, গাড়ির ওডোমিটার যেমন গাড়িট ি তৈর ি হওয়ার পর থেক ে কত কিলোমিটার চলেছ ে তার হিসাব রাখে, বিদ্যুৎ মিটারও তেমন ি মোট কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে, তার হিসাব রাখে।

তব ে ঠিক কত টাক া বিল আসবে, শুধ ু মিটার দেখ ে ত া সবসময় নির্ভুলভাব ে বল া যায় না । কারণ ইউনিটের খরচ ছাড়াও বিল ে মিটার ভাড়া, ভ্যাট ব া অন্যান্য নির্ধারিত চার্জ যুক্ত থাকত ে পারে।

যদিও সরকার বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছ ে বল ে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জ ি রেগুলেটর ি কমিশনের ( বিইআরসি ) এক ঊর্ধতন কর্মকর্তা।

বিদ্যুতের লাইন

ছবির উৎস, Getty Images

ইউনিটপ্রত ি যত বাড়ল বিদ্যুতের দাম

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণার এক দিনের মাথায় আবার দাম পরিবর্তনের কথ া জানিয়েছ ে বাংলাদেশ এনার্জ ি রেগুলেটর ি কমিশন ( বিইআরসি )।

প্রান্তিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের নতুন খুচর া মূল্যহার পুনর্বিবেচনার জন্য বিইআরসিক ে চিঠ ি দিয়েছিল ো বিদ্যুৎ বিভাগ । তার প্রেক্ষিত ে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীক ে বাড়ত ি বিলের চাপ থেক ে রেহাই দিত ে দুই শ্রেণির গ্রাহকদের ক্ষেত্র ে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিইআরস ি জানিয়েছে, আবাসিক লাইফ লাইন (০-৫০ ইউনিট ) এব ং আবাসিক প্রথম ধাপের গ্রাহকদের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার ে বর্ধিত মূল্যহার কার্যকর ন া হয় ে পূর্বের মূল্যহার বহাল থাকবে।

অর্থাৎ, লাইফলাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্র ে ইউনিটপ্রত ি আগের চার টাক া ৬৩ পয়সাই থাকবে । শূন্য থেক ে ৭৫ ইউনিটের মূল্যও আগেরট ি থাকবে, পাঁচ টাক া ২৬ পয়সা।

বাক ী ধাপগুলোর দাম তেসর া জুন বিইআরস ি ঘোষিত নতুন মূল্যহার অনুযায়ী-ই থাকবে।

এছাড়া, ৭৬ থেক ে ২০০ ইউনিটের ক্ষেত্র ে দাম হব ে আট টাক া ৫০ পয়সা । ২০১ থেক ে ৩০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য এই হার নয় টাক া ৫৯ পয়সা।

৩০১ থেক ে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের ক্ষেত্র ে প্রত ি ইউনিটের দাম নির্ধারণ কর া হয়েছ ে নয় টাক া ৬২। ৪০১ থেক ে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের গুণত ে হব ে ১৫ টাক া ১ পয়সা।

আর যেসব গ্রাহক মাস ে ৬০০ ইউনিটের বেশ ি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্র ে প্রত ি ইউনিটের জন্য নির্ধারণ কর া হয়েছ ে ১৭ টাক া ৩৫ পয়সা।

বিদ্যুৎ বিল ও পারিবারিক ব্যয়ের প্রতীকী ছবি

ছবির উৎস, Getty Images

এ মাস ে আপনার বিদ্যুৎ বিল কত আসবে?

ধর া যাক, এতদিন আপনার মাসিক বিদ্যুৎ বিল গড় ে প্রায় দুই হাজার টাক া আসতো।

কিন্ত ু বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার অনুযায়ী, আপনার বর্তমান বিল কতট া বাড়বে, ত া জানত ে হল ে প্রথম ে দেখত ে হব ে আপনার মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার কত ইউনিট।

কারণ সবার বিল সমান হার ে বাড়ব ে না । য ে গ্রাহক যত বেশ ি ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তার ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও তত বেশ ি হত ে পারে।

এট ি জানত ে মিটারের বর্তমান রিডি ং থেক ে আগের মাসের রিডি ং বাদ দিত ে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, আপন ি এ মাস ে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন।

তাহল ে আপনার বিলের একট ি অংশ ৭৬-২০০ ইউনিটের স্ল্যাবে, আরেকট ি অংশ ২০১-৩০০ ইউনিটের স্ল্যাব ে হিসাব কর া হবে । অর্থাৎ, আপনার বিল একাধিক স্ল্যাবের হার ে গণন া কর া হবে।

আরও সহজভাব ে বললে, প্রথম ৭৫ ইউনিটের বিল প্রথম স্ল্যাবের হারে, পরবর্ত ী ১২৫ ইউনিটের বিল দ্বিতীয় স্ল্যাবের হার ে এব ং শেষ ১০০ ইউনিটের বিল তৃতীয় স্ল্যাবের হার ে গণন া কর া হবে । অর্থাৎ, পুর ো ৩০০ ইউনিটের জন্য একই মূল্য প্রযোজ্য হব ে না।

এ বিষয় ে বিইআরস ি’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্ত া বিবিস ি বাংলাক ে বলেছেন,” যখন-ই ৭৫ ইউনিট ক্রস করবে, তখন-ই মাল্টিপল স্ল্যাব ে বিল গণন া কর া হবে ।”

ওই কর্মকর্ত া আরও জানান, আগ ে কারও বিল যদ ি দুই হাজার টাক া হল ে নতুন নিয়ম ে সেই বিল হয়ত ো আড়াই হাজার টাকার মত ো আসবে । অর্থাৎ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উপর ে যত যাবে, দামও তত বাড়বে । কিন্ত ু এট া ঐকিক নিয়মের মত ো বাড়বে । য ে ধাপ ে যত শতাংশ বাড়ান ো হয়েছে, সেই অনুযায় ী বাড়বে।

আবার, কেউ ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করল ে তার বিল হয়ত ো আগ ে এক হাজার টাক া আসতো । কিন্ত ু এখন প্রায় ২০ শতাংশ বেড় ে ত া হয়ত ো এক হাজার ২০০ টাক া হত ে পার ে বল ে মত তার।

বিদ্যুতের প্রি পেইড মিটার

ছবির উৎস, Getty Images

প্র ি পেইড মিটারের বিল বেশ ি আসবে?

বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখার জন্য বাংলাদেশ ে মূলত দুই ধরনের মিটার ব্যবহার কর া হয়।

প্রিপেইড, পোস্টপেইড, এই দুই ব্যবস্থার মূল পার্থক্য হল ো টাক া পরিশোধের পদ্ধতিতে।

পোস্টপেইড মিটারের ক্ষেত্র ে গ্রাহক প্রথম ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, পর ে মাস শেষ ে বিল পরিশোধ করেন । বিদ্যুৎ বিতরণকার ী সংস্থ া নির্দিষ্ট সময় পর মিটারের রিডি ং নিয় ে ব া স্বয়ংক্রিয়ভাব ে তথ্য সংগ্রহ কর ে বিল তৈর ি করে । গ্রাহকক ে সেই বিল নির্ধারিত সময়ের মধ্য ে পরিশোধ করত ে হয়।

অন্যদিকে, প্রিপেইড মিটার ে আগ ে টাক া রিচার্জ করত ে হয়, তারপর সেই টাকার বিপরীত ে বিদ্যুৎ ব্যবহার কর া যায় । মিটারের ডিসপ্লেত ে সাধারণত অবশিষ্ট ব্যালেন্স, ব্যবহৃত ইউনিট এব ং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেখ া যায় । ব্যালেন্স কম ে এল ে মিটার সতর্কবার্তাও দিত ে পারে।

তব ে মিটারের ধরন যাই হোক, ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণের ভিত্তিতেই বিল নির্ধারিত হয়।

” মানুষ মন ে করে, প্রিপেইড ে বেশ ি টাক া নিচ্ছে, বিষয়ট া এরকম না । প্রিপেইড ে যখন রিচার্জ করে, তখন আগেই ভ্যাট কেট ে নেয় । আর পোস্টপেইড ে মাস শেষ ে ব্যাংক ে জম া দেয় । আর প্রিপেইড ে মিটার চার্জ ছিল, কিন্ত ু সেটিও মাইনাস কর া হচ্ছ ে”, বলছিলেন ওই কর্মকর্তা।

মোমের আলোয় পড়তে এক মেয়ে

ছবির উৎস, Getty Images

বিদ্যুতের দাম কেন বাড়াত ে হলো?

য ে দাম বাড়িয়েছে, এত ে ১৫ হাজার কোট ি টাকার মত ো সরকারের হাত ে আসবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ( বুয়েট ) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোট া সরকারের জন্য অপরিহার্য হয় ে গিয়েছিলো।

” কারণ নানাবিধ চাপ ে আছ ে সরকার । এই সরকার এগুল ো সৃষ্ট ি করেছে, ত া বল া যায় না । ৯০ শতাংশ গোলমাল কর ে গেছ ে আওয়াম ী লীগের সরকার । বাক ি ১০ শতাংশ কর ে গেছ ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার । কারণ তার া ভর্তুক ি কমানোর কোন ো উদ্যোগ নেয়নি ।”

আওয়াম ী লীগ উদ্যোগ নিয়েছিল ো য ে তিন বছরের মাঝ ে দাম সমন্বয় হব ে এব ং এই তিন বছর ে ১২ বার বাড়ব ে দাম । কিন্ত ু দুইবার বাড়ার পরেই তার া আর সরকার ে রইল ো না, বলছিলেন তিনি।

ড. ইজাজ হোসেনের মতে,” এই ভর্তুক ি সরকারক ে দিয় ে যেত ে হল ে সরকার পর ে আর ম্যানেজ করত ে পারব ে না । কারণ আমর া আমদান ি নির্ভর হয় ে গেছি । আর এভাব ে চলল ে একট া সময় ডলারের বিপরীত ে টাকার মান কম ে যাবে । তখন এমনিতেই বেড় ে যাব ে বিদ্যুতের দাম ।”

বিদ্যুতের দাম বাড়ান ো প্রসঙ্গ ে চলত ি সপ্তাহেই বিদ্যুৎ, জ্বালান ি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্র ী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিবিস ি বাংলাক ে বলেছিলেন, বিদ্যুৎ খাত ে ভর্তুকির জন্য বাজেট ে য ে বরাদ্দ রাখ া হয়, প্রকৃত ব্যয় অনেক ক্ষেত্র ে সেই সীমাও ছাড়িয় ে যাচ্ছে।

” বিদ্যুৎ বিভাগ যখন এ বিষয় ে আমাদের সঙ্গ ে আলোচন া করেছে, তখন আমর া একটাই কথ া বলেছি, লাইফলাইন গ্রাহক ব া ক্ষুদ্র গ্রাহকর া যেন ক্ষতিগ্রস্ত ন া হন । আমাদের এ ধরনের গ্রাহক ৬০ শতাংশেরও বেশি । একান্ত সাধারণ মানুষের ওপর যেন বাড়ত ি চাপ ন া পড়ে, সেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আমর া আমাদের দিক থেক ে জানিয়েছ ি”, বলেছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ এনার্জ ি রেগুলেটর ি কমিশনের ( বিইআরসি ) ওই কর্মকর্তাও আজ বিবিসিক ে বলেছেন, বাংলাদেশের চার কোট ি গ্রাহকের আড়াই কোট ি গ্রাহক-ই হলেন প্রান্তিক পর্যায়ের । তাদের জন্য পুরন ো মূল্য রাখায় বর্ধিত মূল্যের প্রভাব তাদের ওপর পড়ব ে না।

বিদ্যুৎ - গ্রিড

ছবির উৎস, Getty Images

বিদ্যুৎ খরচ কমানোর সহজ উপায় কী?

বাড়িত ে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রগুলোর মধ্য ে সাধারণত সবচেয় ে বেশ ি বিদ্যুৎ খরচ কর ে এয়ার কন্ডিশনার ( এসি ), গিজার ব া ওয়াটার হিটার, বৈদ্যুতিক চুলা, ওভেন ও ইস্ত্রি । অন্যদিক ে ফ্যান, এলইড ি বাল্ব ও মোবাইল চার্জারের মত ো যন্ত্র তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

ফ্যান, বাতি, টিভি, কম্পিউটার ব্যবহার ন া করল ে সব সময ় এগুলোর সুইচ বন্ধ কর ে রাখল ে এব ং মেশিন ব া ইস্ত্র ি ব্যবহার ন া করল ে প্লাগ খুল ে রাখল ে বিদ্যুৎ কম খরচ হয়।

প্রচলিত বাতির তুলনায ় এনার্জ ি বাল্ব ব া এলইড ি বাত ি ব্যবহার কর া হল ে বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক কম ে আসে । যেখান ে প্রচলিত একট ি বাত ি একশ ো ওয়াট ব্যবহার করে, সেখান ে একট ি এনার্জ ি বাত ি ব্যবহার কর ে মাত্র ২৫ ওয়াট । এছাড়াও, এখন ইনভার্টারযুক্ত ফ্রিজ, এসি, ওয়াশি ং মেশিন পাওয় া যায় । এসব যন্ত্রপাত ি ব্যবহার করল ে বিদ্যুৎ বিল দুই তৃতীয়াংশ কমিয় ে আন া সম্ভব।

বাসাবাড়িত ে এস ি ব্যবহার এখন অনেক বেশ ি নিয়মিত ঘটনা । কিন্ত ু নিয়ন্ত্রিতভাব ে এস ি ব্যবহার কর া গেল ে এর বিল কমিয় ে আন া সম্ভব । এসির তাপমাত্র া সবসময ় ২৫ ডিগ্র ি সেলসিয়াস ে রাখত ে হবে । নির্দিষ্ট মাত্রায ় ঠাণ্ড া হয় ে যাওয়ার পর এস ি বন্ধ কর ে ফ্যান চালান ো যেত ে পারে।

বিদ্যুতের সংযোগ ও তারের ওপর বিদ্যুতের বিল অনেক সময ় নির্ভর করে । খারাপ মানের তার হলে, সংযোগ দুর্বল ব া নড়বড় ে হল ে সেট ি ল ো ভোল্টেজের সৃষ্ট ি করে, ফল ে বিলও বেড় ে যায়।

বহুতল ভবনের সাব-স্টেশন পুরাতন হল ে সেট ি বেশ ি বিলের কারণ হত ে পারে।

বছর ে অন্তত একবার এসব যন্ত্রপাত ি পরীক্ষ া করত ে হবে । বাসার এস ি ও ফ্রিজের ফিল্টার নিয়মিত সময ় পরপর পরিষ্কার করান ো হল ে সেট ি কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে।

বাসায ় রান্ন া কর া ব া খাবার গরম করার ক্ষেত্র ে মাইক্র ো ওভেন ব্যবহার ন া কর ে চুল া ব্যবহার করত ে পারেন । স্ল ো কুকার ব া টোস্টার ব্যবহার কর া যায়।

পাশাপাশ ি দিনের বেলায ় ঘরের ভেতর বাত ি ন া জ্বালিয় ে সূর্যের আলোর সুবিধ া নেয়ার প্রবণত া তৈর ি কর া ভালো । সেট ি আবাসিক বিদ্যুতের ব্যবহার অনেকট া কমিয় ে দিত ে পারে।