Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Asian News International
পশ্চিমবঙ্গের সদ্য ক্ষমতা হারানো তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত ভেঙ্গে তিন টুকরো হয়ে যাওয়ার পরে দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জীকেই ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
আবার একই দিনে মিজ. ব্যানার্জীকেই চেয়ারপার্সন হিসাবে রেখে নির্বাচন কমিশনের কাছে পৃথক এক তালিকা জমা দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জীর গোষ্ঠী। এ নিয়ে দেশের আইন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ সদস্যরা মমতা ব্যানার্জীকে দলের সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে আবার কিছুক্ষণ পরে মি. ব্যানার্জী বলেন, “আমরা চাই দিদি আমাদের পথদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন।”
কলকাতা সংলগ্ন নিউ টাউনের একটি হোটেলে সোমবার বসেছিলো ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ‘বিশেষ অধিবেশন’।
সেখানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জাতীয় কর্মসমিতির ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন দলের অনেক বিধায়ক এবং পুরপ্রতিনিধি।
চেয়ারপার্সন হিসাবে যেমন মমতা ব্যানার্জীকে রাখা হয় নি সেই তালিকায়, তেমনই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর নামও বৈঠকে উহ্য থাকে।
বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারে মমতা ব্যানার্জী বা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর ছবি ছিল না। ছিল মহাত্মা গান্ধী, ভীমরাও রামজি আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের ছবি। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের চেনা প্রতীক জোড়াফুল ছিল সেই ব্যানারে।
গত ১৫ বছরে দলের প্রতিটি ব্যানার এবং পোস্টারে সভানেত্রী মিজ. ব্যানার্জীর ছবি বাধ্যতামূলকভাবেই উপস্থিত থাকত।
ছবির উৎস, Asian News International
মমতা ব্যানার্জি সভানেত্রী নন, ‘পথপ্রদর্শক’
বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জী জানান, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে সর্বসম্মতিক্রমে দলের নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এর পর সাংগঠনিক প্রক্রিয়া, যেমন রাজ্য কমিটি গঠন করা, পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত জেলা সভাপতিসহ জেলা কমিটিগুলো গঠিত হওয়া, তার সঙ্গে ফ্রন্টাল সংগঠনের সভাপতি নির্ধারণ করা এবং মুখপাত্রদের প্যানেল।”
মিজ. ব্যানার্জীকে সভানেত্রীর পদ থেকে সরানো নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, “আমরা তৃণমূল কংগ্রেস। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনে যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা খুব স্পষ্টভাবে আপনাদের জানিয়েছি।”
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা মি. ব্যানার্জী অরূপ রায়, জাভেদ খান ও বিপ্লব মিত্রকে দলের ‘প্রথম দিনের সৈনিক’ বলে বর্ণনা করেন।
বিধায়ক সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, বিপ্লব মিত্র এবং ঋতব্রত ব্যানার্জীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। অন্যদিকে রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান নতুন কোষাধ্যক্ষ হবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ঋতব্রতপন্থী’ তৃণমূল কংগ্রেস।
ঘটনাচক্রে, একই দিনে মমতা ব্যানার্জী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের একটি পরিবর্তিত কর্মসমিতির তালিকা জমা দেন।
সেই তালিকায় দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে থাকে তার নিজের নাম এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থাকে অভিষেক ব্যানার্জীর নাম।
দলের সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছে দলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত বক্সীর নাম। তালিকায় যৌথ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয় দলের সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনের নাম।
এই তালিকা থেকে বাদ রয়েছে সেই অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী সংসদ সদস্যের নামও, যারা সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া’ নামে একটি নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে যান।
ওই গোষ্ঠীটি আবার জানিয়েছে যে তারা লোকসভায় ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করবেন।
ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত রাজ্যসভার একাধিক সংসদ সদস্য, যেমন সুস্মিতা দেব এবং সুখেন্দু শেখর রায়, তাদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
ছবির উৎস, Asian News International
‘যা করেছি নিয়ম মেনে’
তৃণমূল কংগ্রেসের দুটি আলাদা কর্মসমিতির তালিকা জমা পড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা।
অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, আইন অনুযায়ী কোন তালিকা গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন।
তার সঙ্গে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং বিশাল সম্পত্তির দায়িত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়েও চলছে জল্পনা।
‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনের পর ঋতব্রত ব্যানার্জী দলের পরিচয়-সংক্রান্ত আইনি খুঁটিনাটির বিষয়টি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “যা টেকনিক্যালিটির ব্যাপার আছে তা নির্বাচন কমিশন সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট জায়গায় আমরা জানাব। জাতীয় কর্ম সমিতি করতে হয়েছে তার নিশ্চিত ভাবে টেকনিক্যাল কারণ ছিল। সেই জন্যই করতে হয়েছে। সমস্ত আইন মেনে, তৃণমূল কংগ্রেসের যা সংবিধান সব কিছুর সাথে সাযুজ্য রেখে আজকের এই অধিবেশন হয়েছে।”
মমতা ব্যানার্জীর জমা দেওয়া কর্মসমিতির তালিকাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আইন কানুন মেনে সব করতে হয়। যাদের নাম ঘোষণা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়, তারা তার আগেই অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। পরের দিন সকালবেলা ইস্তফা দিচ্ছেন। এর মধ্যে কথিত জাতীয় কর্ম সমিতির বলে যেটাকে বলা হচ্ছে তার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ইস্তফা দিয়েছেন। কাল বিধানসভায় তিনি আসবেন।”
“স্বাভাবিক ভাবে পার্লামেন্টারী গণতন্ত্রে যেখানে নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেকোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে চলতে হবে। আমরা যা করেছি সমস্তটাই নিয়ম মেনে, এবং আমরা তা সংশ্লিষ্ট জায়গায় জানিয়ে দেব। … যে সর্বোচ্চ সংস্থা রয়েছে তার কাছে আমরা আমাদের নথিপত্র জমা দেব।”
‘মমতাপন্থী’ বিধায়ক কুণাল ঘোষ সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “আমরা খবর পেয়েছি, কিছু ব্যক্তি আমাদের দলের নাম ব্যবহার করে একটি হোটেলে বিভিন্ন কার্যকলাপ চালাচ্ছেন। এটি বেআইনি; এমনটা করার কোনো অধিকার বা এখতিয়ার তাদের নেই। আমরা মনে করি, তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা ব্যানার্জী এবং মমতা ব্যানার্জী মানেই তৃণমূল কংগ্রেস।”
তিনি আরো বলেন, “কিছু মানুষ অসৎ উপায়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে, চাপ সৃষ্টি করে অন্যদের নিজেদের দলে যোগ দিতে বাধ্য করছে। দিদির প্রতীক নিয়েই আপনারা বিধায়ক, সংসদ সদস্য এবং কাউন্সিলর হয়েছিলেন।
“যদি দল ছাড়ার সাহস ও ইচ্ছা আপনাদের থাকে, তবে সেই সাহসটুকু দেখান। সরাসরি দিদির কাছে গিয়ে বলুন, ‘দিদি, আমি দল ছাড়ছি।’ কিন্তু সেই সাহস আপনাদের নেই,” মন্তব্য কুনাল ঘোষের।
ছবির উৎস, Asian News International
ভারতের নির্বাচনী আইন কী বলছে?
কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী সৃষ্টির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কী ভূমিকা থাকবে, তার উল্লেখ রয়েছে ভারতের নির্বাচনী প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশ, ১৯৬৮-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে।
এতে বলা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যদি কমিশন নিশ্চিত হয় যে কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী রয়েছে এবং তারা সকলেই নিজেদের সেই মূল দল হিসেবে দাবি করছে, তবে কমিশন মামলার সমস্ত তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও বক্তব্য রাখতে ইচ্ছুক অন্যান্য ব্যক্তিদের কথা শোনার পর সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, ওই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কোনো একটিই হল সেই স্বীকৃত রাজনৈতিক দল।
অন্যদিকে কমিশন এও সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে সেগুলোর কোনোটিই সেই মূল দল নয়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর ওপর বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য হবে।
১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর ‘সাদিক আলি বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, যখন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কোনটি প্রকৃত দল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন প্রতিটি গোষ্ঠীর সংখ্যাগত শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
আদালত আরও জানায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সংখ্যার শক্তির বিষয়টি একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও প্রাসঙ্গিক মাপকাঠি। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বা রাজনৈতিক কাঠামোর ক্ষেত্রে সংখ্যার প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব রয়েছে এবং সেগুলোকে উপেক্ষা করা সম্ভবও নয়, আবার তা সমীচীনও নয়।
ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি বিবিসি কে জানান, “যখন দুই গোষ্ঠী একই রাজনৈতিক দলের নাম এবং প্রতীকের উপর দাবি জানায়, নির্বাচন কমিশন সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সেই ক্ষেত্রে লেজিসলেটিভ (অর্থাৎ কতজন সংসদ সদস্য বা বিধায়ক সেই গোষ্ঠীকে সমর্থন করছেন) সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে বেশি প্রাধান্য পায়।”
তবে তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রের শিবসেনা দলের বিভাজনের মামলায় ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিজেদের প্রকৃত দল হিসেবে দাবি করা কোনো গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কেবল ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ বিবেচনা করাই যথেষ্ট নয়। বরং দলের প্রতীকটি কাদের পাওয়া উচিত, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে “অন্যান্য মানদণ্ডও বিবেচনা করতে হবে”।
আদালত উল্লেখ করেছিলো যে শিবসেনার মতো মামলার ক্ষেত্রে “আইনসভায় কোন গোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তা যাচাই করা নিরর্থক”।
আদালত জানিয়েছিল, অন্যান্য মানদণ্ডের মধ্যে থাকতে পারে রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার মূল্যায়ন, দলের সংবিধান বিশ্লেষণ কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
এছাড়া আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, স্পিকারের সিদ্ধান্ত কেবল লেজিসলেটিভ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত নয়।
‘সাদিক আলি বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ মামলায় আদালত এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তিনটি পরীক্ষার কথা বিবেচনা করেছিল।
সেগুলি হল, দলের সংবিধান ও নিয়ম বিশ্লেষণ করা, দলের লক্ষ্যের প্রতি কোন গোষ্ঠীটি বেশি অনুগত রয়েছে তা যাচাই করা, এবং দলের লেজিসলেটিভ (অর্থাৎ সংসদের উভয় কক্ষ ও রাজ্যের বিধানসভা) ও সাংগঠনিক কাঠামো, উভয় ক্ষেত্রেই কোন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তা মূল্যায়ন করা।
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভা সদস্য জহর সরকার বিবিসিকে বলেন, “দুই গোষ্ঠীই তৃণমূল কংগ্রেসের নামের উপর দাবি জানাচ্ছে। এক দিক বলছে আমার সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, আরেকদিন বলছে আমার কাছে দলের প্রতীক, নাম, সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক একাউন্ট আছে। একই নামের উপর যখন ডিসপিউট হয়, তখন নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কী হবে, তা আগে থেকে বলা কঠিন।”
“শিব সেনার ক্ষেত্রেও আমরা এটা দেখেছি, ১৯৬৯ সালে কংগ্রেসেও আমরা এই ধরণের বিভাজন দেখেছি। একদিকে ছিল ইন্দিরা গান্ধীর অনুগত কংগ্রেস (আর) অর্থাৎ রিকুজিসনিস্টস। অপর দিকে ছিল কে কামরাজ মতো নেতাদের নেতৃত্বে পরিচালিত কংগ্রেস (ও) অর্থাৎ অর্গানাইজেশন। অর্থাৎ এইরকম রাজনৈতিক পরিস্থিতি একেবারেই নতুন নয়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদ সদস্যদের অন্য দলে যোগ দেওয়া এবং বিধায়কদের তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয়ের ওপর দাবি জানানোর কারণে দলের বিদ্রোহী জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তা এক অভিনব ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।




