Home LATEST NEWS BANGLA আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যে চিত্র দেখা গেল

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যে চিত্র দেখা গেল

2
0

Source : BBC NEWS

মঙ্গলবার সকালে ঢাকার গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের চিত্র

নেই কোনো কর্মসূচির তোড়জোড় কিংবা নেতাকর্মীর স্লোগান। সড়কের দুই পাশে ব্যারিকেড দিয়ে দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন এমন দৃশ্যই দেখা গেল।

একই অবস্থা দলটির ধানমন্ডি এবং তেজগাঁও কার্যালয়ের সামনেও।

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরেও।

বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নজরে না পড়লেও এদিন তাদের কর্মসূচি ঠেকাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাঠে সরব ছিল ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিএনপি এবং জামায়াতের কর্মসূচি ঘিরে দলটির নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে-রকম উপস্থিতি দেখা যেত, অনেকটা একই দৃশ্য এবার দেখা গেল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলকে কর্মসূচি পালন করতে দেবেন না তারা। আর এ কারণেই কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠে নেমেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুরসহ ছয় জেলায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

একইভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে দেশের পাঁচ জেলায়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বাড়তি নিরাপত্তা আয়োজন রাখা হয়েছে।

এদিকে, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আগের কয়েকদিন ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে ছোটোখাটো মিছিল করতে দেখা গেলেও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তেমন তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি।

যদিও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে ঘিরে মঙ্গলবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দলটির ১৮ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের খবর জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এছাড়া দলটির ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেক কাটা কিংবা মিছিলের বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলেও সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক বন্ধ রাখা হয়

সরব অন্য রাজনৈতিক দল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে প্রায় দেড় যুগ ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়া দলটি গত প্রায় দুই বছর ধরে বারবার ফেরত আসার কথা বললেও, রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হতে পারেনি এখনও।

এমন প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দলটি। সম্প্রতি ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে তৎপরতাও দেখা গেছে দলটির নেতা-কর্মীদের।

যদিও এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তাদের গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীর সংখ্যাও।

মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকাল থেকেই গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দেখা গেল শুনশান নীরবতা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও সরেজমিন পরিদর্শনে দলটির কোনো তৎপরতা মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দেখা যায়নি।

বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, ফার্মগেট, ধানমণ্ডি, মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই সরব উপস্থিতি দেখা গেছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের।

অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, মোটর সাইকেল শো ডাউনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তারা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনকে দেশের রাজনীতিতে আর সক্রিয় হতে দেবেন না তারা। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের নামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে কোনো নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য সক্রিয় থাকার কথাও জানান নেতাকর্মীরা।

ঢাকা বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

“আওয়ামী লীগ তাদের কাজের কারণেই দেশের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের নামে তারা যেন কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে না পারে সেজন্যই আমরা মাঠে সক্রিয় আছি,” বিবিসি বাংলাকে বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা মল্লিক ওয়াসি তামি।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দলটির গুম, খুন ও সন্ত্রাসের বিচারের দাবিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিল থেকে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সাংবাদিক বিবিসি বাংলাকে জানান, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে এ ঘটনা ঘটে।

গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতিও দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এদিকে মঙ্গলবার ভোর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি উপস্থিতি দেখা গেছে।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের আশপাশের সড়কগুলোতে ছিল কড়া নজরদারি।

সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যক্তি কিংবা যানবাহনে তল্লাশি চালাতে এবং র‍্যাব ও পুলিশকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টহল দিতেও দেখা যায়।

সকাল থেকে ঢাকার রাস্তায় গণপরিবহণ কিছুটা কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে এই সংখ্যা অবশ্য বেড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ এবং গাজীপুরে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যদেরকে টহল দিতে দেখা গেছে

ছবির উৎস, SCREEN GRAB

ঢাকার বাইরেও পালটা কর্মসূচি

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকার বাইরেও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরকে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।

গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্রদল ও যুবদলসহ বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকার বাইরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি উপস্থিতির খবর আগেই জানিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর থেকেই নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ এবং ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের বাড়তি উপস্থিতি ছিল।

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গত কয়েকদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মসূচি পালন করলেও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তেমন কোনো খবর তারা নিশ্চিত করতে পারেননি।

এদিকে, সকাল থেকেই জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ জামান।

তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কার তেমন কোনো কারণ নেই, আমরা রুটিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। পর্যাপ্তসংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।”

নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুরে পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি-কে টহল দিতে দেখা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর মহানগর এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় আগামী ৩০শে জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাসদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।