Home LATEST NEWS BANGLA ২৫ বছরে এসএসসিতে যেভাবে বেড়েছে জিপিএ-৫

২৫ বছরে এসএসসিতে যেভাবে বেড়েছে জিপিএ-৫

6
0

Source : BBC NEWS

২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা।

ছবির উৎস, Getty Images

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে আজ। তাতে দেখা গেছে, আগের বছরগুলোর তুলনায় এ বছর পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়ার হার, দু’টোই কমেছে।

বাংলাদেশের এসএসসি ও এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষাগুলোয় ২০০০-এর শুরুর দিকে পাস করা এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা।

কিন্তু সেই চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে যায় গত ২৫ বছরে। বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে; এই সংখ্যা লাখের ঘর ছাড়িয়ে যেতো। এমনটা জানা যাচ্ছে তথ্য-পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে।

যদিও শিক্ষাবিদরা বলছেন, যদি দেশের সব শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় পাস করে, তাহলেও বলা যাবে না যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা গুণগত-মান অর্জন করেছে। কারণ এই মান নির্ভর করে শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা এবং মানসম্মত শিক্ষকের ওপর।

তাদের মতে, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে এগুলোর ঘাটতি রয়ে গেছে।

কিন্তু তারপরও গত ২৫ বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এত কীভাবে বেড়েছে? আর কোন কোন ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে এসএসসির ফল বিবেচনা করা হয়?

ফলাফলে এগিয়ে থাকলে শিক্ষার্থীরা নিজ পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনেও এগিয়ে থাকেন

ছবির উৎস, Getty Images

উনিশ বছরের মাঝে সর্বনিম্ন পাসের হার

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো।

সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এবার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে , যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সর্বশেষ এর চেয়ে কম পাসের হার ছিল ২০০৭ সালে, যখন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

২০০৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩২ হাজার ৬৪৬ জন শিক্ষার্থী।

আর, এ বছর পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।

সে হিসেবে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মাধ্যমিকে পাশের হার ও জিপি-৫, দু’টোই কমেছে।

উল্লেখ্য, এ বছর ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছিলেন।

এর মধ্যে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিলে তিন লাখ চার হাজার ২৮৬ জন এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।

তবে ফরম পূরণ করেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন সাড়ে ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১শে এপ্রিল, শেষ হয় গত ২৪শে মে।

ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা স্কুলে গিয়ে উদযাপন করছে (ফাইল ফটো)

ছবির উৎস, Getty Images

ছিয়াত্তর জন থেকে দুই লাখের বেশি

বাংলাদেশে ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সনাতন পদ্ধতিতে নম্বর দেওয়ার পরিবর্তে গ্রেড পদ্ধতি চালু করা হয়। শুরুর দিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই কম।

গ্রেড পদ্ধতি চালুর আগে আশি নম্বর পেলে বলা হতো লেটার মার্কস। কিন্তু ওই বছর থেকে এটিকে বলা হয় জিপিএ-৫।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া প্রতিবেদন থেকে গত ২৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গ্রেড পদ্ধতি শুরুর বছরে মাত্র ৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলো।

পরের বছর, ২০০২ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল৩৩০ জন শিক্ষার্থী। ২০০৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় এক হাজার ৩৯২।

এরপর থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

২০০৪ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় আট হাজার ৫৯৭ জনে। ২০০৫ সালে ১৭ হাজার ৬৩১ জন এবং ২০০৬ সালে ২৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

পরবর্তী বছরগুলোতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ে।

২০০৭ সালে জিপিএ-৫ পায় ২৫ হাজার ৭৩২ জন শিক্ষার্থী। পরের বছর ২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৯১৭ জনে এবং ২০০৯ সালে আরও বেড়ে হয় ৪৫ হাজার ৯৩৪ জন।

২০১০ সালে এই সংখ্যা এক লাফে বেড়ে ৫২ হাজার ১৩৪ জনে পৌঁছায়।

২০১১ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ২৪৪ জন। ২০১২ সালে তা কিছুটা বেড়ে হয় ৮২ হাজার ২১২ জন এবং ২০১৩ সালে ৯১ হাজার ১২২ জন।

এরপর ২০১৪ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রথমবারের মতো লাখের ঘরে চলে যায়। সে বছর মোট এক লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

পরের বছর ২০১৫ সালে এক লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন জিপিএ-৫ পায়। ২০১৬ সালে পায় এক লাখ নয় হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী। ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পায় যথাক্রমে এক লাখ চার হাজার ৭৬১ জন, এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন ও এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন।

২০২০ সালে করোনা মহামারীর বছরে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮। ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জনে, সেবার অটোপাশ দেওয়া হয়েছিল।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ আসে ২০২২ সালে। ওই বছর দুই লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ এই গ্রেড অর্জন করে।

এরপর অবশ্য সংখ্যাটি টানা কমেছে। ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পায় এক লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন, ২০২৪ সালে এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন এবং ২০২৫ সালে এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। আর এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এসএসসির ফলাফল লাগে

ছবির উৎস, Getty Images

এসএসসি’র ফল কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পরবর্তী ধাপের শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ।

আবার কিছু চাকরি ও কারিগরি শিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম ফলের শর্ত রয়েছে।

এসএসসির ফলের সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে।

কারণ বর্তমানে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে পরিচালিত হয়। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পাওয়া জিপিএ ও মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীর পছন্দের তালিকা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কলেজে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়।

ফলে একজন শিক্ষার্থীর ফল যত ভালো, পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগও তত বেশি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রেও শুধু এইচএসসি নয়, এসএসসির ফল বিবেচনায় নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর শর্ত থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত মেধাক্রম তৈরিতেও এই দুই পরীক্ষার ফল থেকে নম্বর যোগ করা হয়।

যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের জন্য দুই পরীক্ষার জিপিএ’র যোগফল বিজ্ঞান শাখায় ন্যূনতম আট, আর মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় ন্যূনতম সাড়ে সাত হওয়া জরুরি।

আবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বা মেডিক্যালে পড়ার আবেদন করতে হলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট জিপিএ ১০ থাকতে হবে।

এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা সরকারি ও বেসরকারি বৃত্তিও পেয়ে থাকে।

পাশের হার ও জিপিএ-৫ দু'টোই কমেছে এ বছর (প্রতীকী ছবি)

ছবির উৎস, Getty Images

এদিকে, যারা সাধারণ উচ্চশিক্ষার বদলে কারিগরি শিক্ষা নিতে চান, তাদের ক্ষেত্রেও এসএসসির ফল গুরুত্বপূর্ণ। কারিগরি বোর্ডে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা পর্যায়ের ভর্তির আবেদনের জন্য এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ দুই দশমিক পাঁচ থাকতে হয়। যদিও কোর্স অনুযায়ী ফলাফলের চাহিদা কখনও কখনও বাড়তে বা কমতে পারে।

আবার, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির জন্য প্রার্থীর সামগ্রিক জিপিএ এবং গণিতে আলাদা জিপিএ তিন বা তার বেশি প্রয়োজন হতে পারে।

তবে শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে শিক্ষাজীবনের তুলনায় কর্ম জীবনের সংস্পর্শ কম। ফলে কর্মজীবনে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের সরাসরি ভূমিকা ‘সীমিত’। তারপরও কিছু চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে এটি যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

যেমন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে অনেক ক্ষেত্রেই এসএসসি ও এইচএসসিতে ন্যূনতম ফলের শর্ত দেওয়া থাকে। আবার, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন চাকরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি বা সমমানের সনদ চাওয়া হয়।

তবে প্রায়ই আলোচনায় থাকা বাংলাদেশে সরকারি কর্ম কমিশন বা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যে এসএসসি পরীক্ষার ন্যূনতম কোনো ফলাফল থাকা জরুরি নয়।

যেমন, ৫০ তম বিসিএস পরীক্ষার জন্য দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতেও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ফলাফল চাওয়া হয়নি। তবে বলা হয়েছে, “কোনো প্রার্থীর শিক্ষা জীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ থাকলে তিনি যোগ্য বিবেচিত হবেন না।”

এর বাইরে এসএসসির সনদ অনেকের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন চাকরি, লাইসেন্স বা সনদ পাওয়ার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন হতে পারে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কোনো কোনো প্রবাসী কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র হিসেবে এসএসসি বা সমমানের সনদ ব্যবহৃত হয়।

ফলে এসএসসির ফলের সবচেয়ে বড় প্রভাব পরবর্তী ধাপের শিক্ষায় দেখা গেলেও, উচ্চশিক্ষা থেকে শুরু করে বৃত্তি, কারিগরি শিক্ষা এবং নির্দিষ্ট কিছু চাকরিতেও এর প্রভাব থেকে যায়।

২০০১ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৭৬ জন

ছবির উৎস, Getty Images

পাশের হার ও সর্বোচ্চ গ্রেডের সংখ্যা কমছে কেন?

গত ২৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ২০১০ সালের পর থেকে এসএসসি’র পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ক্রমশই বেড়েছে।

তবে গত বছর থেকে, অর্থাৎ ২০২৫ সাল থেকে এই হার অনেকাংশে কমে গেছে। দুই বছর ধরে এই যে পাশের হার ও জিপিএ ৫ এর সংখ্যা কমছে, নানাভাবে ব্যাখ্যা করছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে ফলাফলের এই পরিবর্তনের পেছনে আরও বেশ কিছু কারণের কথা বলছেন তারা।

যেমন– খাতা মূল্যায়নে কড়াকড়ি, বারবার কারিকুলাম পরিবর্তনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, কিংবা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, “মূল্যায়নকে একটা ব্র্যান্ডিং-এর মাঝে নিয়ে গেছি আমরা। মূল জায়গায় কেউ হাত দিচ্ছে না। আমাদের দেশের শিক্ষা খাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো (বোর্ড/এনসিটিবি) নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সরকার যা বলে, সেটাই করে।”

পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা (ফাইল ছবি)

ছবির উৎস, Getty Images

‘অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা ছিল’

অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে এখন কলেজ, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক এবং এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থাকার কারণে ফলাফলের পরিসংখ্যান বদলে যায়।

“কলেজে আসন ফাঁকা থাকবে, সেজন্য আমি পাস করিয়ে দিবো? পাশের হার না বাড়লে ইউনিভার্সিটিগুলো ছাত্র পাবে কোথায়? এই পরিসংখ্যানই রেজাল্ট ঘুরিয়ে দেয়। তাই, এই রেজাল্ট দিয়ে শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে, তা নিয়ে আমি আস্থা রাখতে পারি না।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান শিক্ষাপদ্ধতি ও শিক্ষকদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

একই সাথে তিনি এ-ও জানান, সকল শিক্ষার্থী যদি জিপিএ-৫ পায়, তাহলে তিনি খুশি হবেন। “কিন্তু যে লেভেলে তারা পাস করছে, ওই লেভেলের সামর্থ্য যেন তারা অর্জন করতে পারে।”

জিপিএ-৫ ও পাসের হার বাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা খাতা দেখার ব্যাপারে নমনীয়তার কথা শুনি। হয়তো কারিকুলাম ছোট করা হয়েছে, প্রশ্নের ধরন চেঞ্জ হয়েছে। তবে যারা এ+ পাওয়ার, তারা ঠিকই পাচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো পলিসিগত ইস্যুর কারণে বেশি পেয়ে যাচ্ছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিজেদের সফলতা দেখাতে পাশের হার ও জিপিএ-৫ বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা ছিল।

“মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ওভার মার্কিং বা আন্ডার মার্কিং ইস্যুতে ধিরে ধিরে একটি সঠিক জায়গায় আসার চেষ্টা করবে সরকার। এ বছর পাশের হার যতটা হয়েছে সামনের বছর এই হার এর থেকেও কম হতে পারে,” বলেছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ।