Home LATEST NEWS BANGLA ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরতের প্রক্রিয়া দ্রুত করবে বলে আশা বাংলাদেশের

ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরতের প্রক্রিয়া দ্রুত করবে বলে আশা বাংলাদেশের

3
0

Source : BBC NEWS

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন

ছবির উৎস, PM Press Wing

ভারত
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে এমন আশা করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দফতরে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য
সাক্ষাৎ করতে এলে এ আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। ভারতীয় হাইকমিশনার ঢাকায় গত দুই মাসের
দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়ে আলোচনা হয়৷

এছাড়া, গণঅভ্যুত্থানের পরে নিহত ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে
দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকের পরে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, “খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে। উই আর লুকিং ফরওয়ার্ড। আমাদের ইনভাইটেশন তো আগে থেকে আছে। লাস্ট টাইম অলসো আই মেনশন, পিপল অফ ইন্ডিয়া, প্রাইমিনিস্টার অফ ইন্ডিয়া ইজ লুকিং ফরওয়ার্ড। উই আর পজিটিভ।”

গণতন্ত্রে সবসময়ই নানা ইস্যু থাকবে উল্লেখ করে মি. ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং দুই দেশ একই সীমান্ত শেয়ার করে।

ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, “ডেমোক্রেসিতে ইস্যুজ থাকবে। ইস্যু না থাকলে ওইটা ডেমোক্রেসি না। আমাদের ইস্যু থাকবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই, ভালো সম্পর্ক। ভালো সম্পর্ক হলে উইন উইন সিচুয়েশন। আমাদের হিস্টোরিকেল তো বদলাতে পারবেন না। আমাদের নেইবারহুড তো বদলাতে পারবে না।”

বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের জন্যই আগামী দিন ভালো যাবে বলে আশাপ্রকাশ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

“আমার মনে হচ্ছে আগামী দিন ভালোই হবে। ইস্যুজটা সর্ট আউট করতেই হবে দুই দিক থেকেই। আই এম ভেরি ভেরি কনফিডেন্ট, ওনার সঙ্গে দেখা করে খুবই ভালো লাগলো” বলেন দীনেশ ত্রিবেদী।

ওই বৈঠকের পরে পাঁচই অগাস্ট নয়াদিল্লিতে
শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে কিনা সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে।

তিনি বলেন, “পাঁচ অগাস্টের
ব্যাপারে আমাদের যে পজিশন আমরা ক্লিয়ারলি বলে দিয়েছি। এবং সেটা গুরুত্বের সঙ্গে
অনুধাবন করেছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সেটা আমাকে গতকালকেও তারা জানিয়েছেন আজকেও তারা
প্রধানমন্ত্রীকে সেটা বলেছেন।

ভারত দুঃখ প্রকাশ করেছে
কিনা এমন প্রশ্নে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দুঃখপ্রকাশের বিষয় নয় জিনিসটা। আপনাদেরকে
ভালো করে বুঝতে হবে কি হয়েছে জিনিসটা। একটা রাষ্ট্রের তিনটা স্তম্ভ থাকে, নির্বাহী,
আইন প্রণয়ন এবং বিচার বিভাগ, এক্সিকিউটিভ লেজিসলেটিভ এবং জুডিশিয়ারি।”

শেখ হাসিনার বিচার হয়েছে
বাংলাদেশের আদালতে এবং পাঁচই অগাস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে শেখ
হাসিনা জুডিশিয়ারির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, “দণ্ডপ্রাপ্ত
হাসিনা তার জায়গা হচ্ছে জুডিশিয়ারি। বাংলাদেশের একটা কম্পিটেন্ট কোর্ট তার বিচার
করেছে, তাকে দণ্ড দিয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দেশে কী হয়, তাকে কাস্টডিতে নেয়া
হয় এবং তার যদি কিছু বক্তব্য থাকে, আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু থাকে সেটা আদালতে বলবে।
পাঁচ তারিখে হাসিনা যেই কাজটি করেছে সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের জুডিশিয়ারি, রাষ্ট্রের একটি
স্তম্ভের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি সে দেখিয়েছে এবং সেই কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে।”

বাংলাদেশের কোন স্তম্ভকে ভারত
“আন্ডারমাইন বা ছোট করে দেখবে না” বলে আশাপ্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

“সুতরাং আমরা এই কথাটা
গতকালকেও বলেছি যে, রাষ্ট্রের পুরো কাঠামোর প্রতি আমরা চাই সারা বিশ্বের সকল দেশ
শ্রদ্ধাশীল হোক। আমরা আশা করবো, আমাদের এই বিষয়টি ভারত সরকার অনুধাবন করবেন।
তাদের সাথে কথা বলে আমার ধারণা হচ্ছে তারা জিনিসটা বুঝতে পেরেছে। আশা করবো যে, আমাদের
রাষ্ট্রের কোন স্তম্ভকে আন্ডারমাইন করার মত কিছু তারা আর কিছু করবেন না, এটা আমাদের
প্রত্যাশা। এবং তাদের সাথে আমার যা কথা হয়েছে তাতে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত যে এই
ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না” বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

ছবির উৎস, Screen Grab