Home LATEST NEWS BANGLA আরাঘচিসহ ইরানের প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন মার্কো রুবিও

আরাঘচিসহ ইরানের প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন মার্কো রুবিও

3
0

Source : BBC NEWS

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

Published

পড়ার সময়: ৪ মিনিট

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে দেশটির কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলকে সোমবার নিউইয়র্ক ছাড়তে বলেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও আরও একটি সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক র‍্যাভিড।

র‍্যাভিডের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন মিশনের মাধ্যমে রুবিওর এ বার্তা ইরানি প্রতিনিধিদলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তবে, আরাঘচির নিউইয়র্ক থেকে ফেরার ফ্লাইটটি সোমবার সন্ধ্যায় পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দোহার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বারাক র‍্যাভিড লিখেছেন, “আব্বাস আরাকচিসহ ইরানি প্রতিনিধিদল কয়েক ঘণ্টা পর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয় এবং মঙ্গলবার রাত একটা ২০ মিনিটে নিউইয়র্ক থেকে দোহাগামী বিমানটি ছেড়ে যায়।

দ্বিতীয় আরেকটি সূত্রও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছেড়ে যেতে বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

যদিও সোমবার সন্ধ্যায় আরাঘচির তেহরানে ফেরার সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলেও জানান তিনি।

নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে আরাঘচি সাংবাদিকদের বলেন, কাতারের মাধ্যমে তিনি ইরানের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা মার্কিন সরকারের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে ইরান ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনা চলমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। অর্থাৎ, দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ হয়নি, আবার কোনো যুদ্ধবিরতিও হয়নি।

তবে বুধবার ইরান জানায়, তাদের দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পেয়েছে।

হরমুজ প্রণালি

অ্যাক্সিওসের এই প্রতিবেদন এবং মার্কো রুবিওর ‘নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ’ হিসেবে যে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এ আলোচনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রে রয়েছে যুদ্ধের অবসান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়। কাতার ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

সাম্প্রতিক আলোচনায় ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দেয়। তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা

শিথিল এবং জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ের মতো পদক্ষেপের বিনিময়ে প্রণালিটিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর কথা বলা হয়েছে। এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বৃহত্তর বিষয়ে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে।

তবে প্রস্তাবটির বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

ট্রাম্পের সরকার সরাসরি সমাধান চাইলেও ইরান ধাপে ধাপে আস্থা তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। ফলে নিউইয়র্কে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা যোগাযোগ হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

এর মধ্যেই ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব পেয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওই জবাব তেহরানের কাছে পৌঁছেছে। তবে প্রস্তাবের বিভিন্ন পদক্ষেপ কোন ক্রমে বাস্তবায়ন হবে—তা নিয়ে আলোচনার অন্যতম প্রধান মতপার্থক্যের জায়গা তৈরি হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছাড়ার জন্য মার্কো রুবিওর নির্দেশের খবর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক অচলাবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে সামনে আসছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্প: শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা দেখতে পাবেন

এদিকে, ইরান প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “শিগগিরই আপনারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা দেখতে পাবেন।”

তবে, ঠিক কী ধরনের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার উপলক্ষে হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দেশকে মোকাবিলা করছি, যে দেশ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় নেই।”

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেন, “তাদের নৌবাহিনী নেই। বিমানবাহিনী নেই। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও নেই।”

হরমুজ প্রণালি নিয়েও নিজের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের কার্যত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।”

গত তিন দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ তেল পরিবহন হয়েছে, সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, “আমি শুধু যুদ্ধের সময়ের কথা বলছি না, আমি পুরো ইতিহাসের কথা বলছি।”

ট্রাম্পের এসব মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে।

প্রণালিটি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান সম্প্রতি একটি সাত দিনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং অন্যান্য কিছু শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে তেহরান।

অন্যদিকে, ইরান বলে আসছে যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনো যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যায়নি এবং প্রণালিটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুই দেশের মধ্যে মূল মতপার্থক্য এখনো কাটেনি।

এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের “খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা” ঘটার ইঙ্গিত নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে যে ওয়াশিংটন কি সামরিক পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছে?

নাকি ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তবে, ট্রাম্প তার বক্তব্যে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।