Home LATEST NEWS BANGLA ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুতিনের ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক

ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুতিনের ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক

2
0

Source : BBC NEWS

ট্রাম্প-পুতিন

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।

ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা এমন একটি সময়ে রাশিয়া গেছেন, যার ঠিক এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে সিআইএ’র প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ ‘বিরল এক সফরে’ মস্কো যান।

তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি।

রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে রোববার কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দলটির।

গত শনিবার ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রুশ প্রেসিডেন্টকে মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। পুতিনকে সেসময় বলতে শোনা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি “খুব একটা সহজ নয়”।

তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে রাজি হওয়ায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উইটকফ।

পুতেনের সঙ্গে দেখা করার পর রোববার মার্কিন প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা কিয়েভে যাবেন। যুদ্ধ অবসানে আলোচনার জন্য ইউক্রেনের রাজধানীতে এটিই তাদের প্রথম সফর।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

সবশেষ গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, উইটকফ ও কুশনার “যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসছেন”।

গত শনিবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় পুতিন বলেছেন, “যা-ই ঘটুক না কেন, এ ধরনের যোগাযোগ নিঃসন্দেহে সবসময়ই উপকারী”।

তিনি শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করতে “স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন” বলেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

“এক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে আমরা অবশ্যই বেশ উচ্চমাত্রায় আস্থা রাখছি,” বলেন পুতিন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে এবং দু’পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে কি-না, সেবিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।

ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার

ছবির উৎস, Reuters

তবে রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ওই বৈঠককে ‘গঠনমূলক এবং অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

“আলোচনা শুধু ইউক্রেন সংকট সমাধানের বিষয়ে মতবিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য বড় ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্পগুলো নিয়েও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে,” বলেন ইউরি উশাকভ।

“যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতির বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়েছে” মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, চলমান ওই সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের জন্য আরও আলোচনায় প্রয়োজন রয়েছে।

কিয়েভসহ ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও এই যুদ্ধের বেশিরভাগ সময় জুড়ে রুশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত ধীর গতিতে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। এতে তারা ব্যাপক হতাহতের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে রাশিয়া।

গত শনিবার পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বৈঠকের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন যে, তিনি ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

মস্কোর সঙ্গে বৈঠক শেষে রোববার একই ইস্যুতে কিয়েভের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদের।

“স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি এবং একটি ফলপ্রসু আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি,” বলেছেন জেলেনস্কি।

পুতিন ও ট্রাম্প

ছবির উৎস, Reuters

বৈঠক চলাকালে, অর্থাৎ গত শনিবার থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত রাশিয়া এবং ইউক্রেন একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতোমধ্যেই তিন দিনের জন্য কিয়েভে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে রুশ গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন জানিয়েছেন, কিয়েভের বাইরে ইউক্রেনের অণ্য অঞ্চলের জন্য সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতির নির্দেশনা কার্যকর হবে না।

যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং মধ্যস্থতাকারী মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন।

ট্রাম্পের দূত কুশনার এবং উইটকফ এর আগেও বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করেছেন। তবে রোববার তারা প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে আলোচনা করতে যাচ্ছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় মস্কো থেকে মার্কিন প্রতিনিধিরা কীভাবে কিয়েভে যাবেন, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে, গত শনিবারের বৈঠকের আগে রাশিয়া রাতভর কিয়েভ ও বোরিসপিলের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি।

তবে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফরকালে আকাশসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি

ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা এমন একটি সময়ে রাশিয়া গেছেন, যার ঠিক এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে সিআইএ’র প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ ‘বিরল এক সফরে’ মস্কো যান।

তবে ওই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং রাশিয়া আলাদাভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, যুদ্ধ শেষ করতে একটি শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এছাড়া বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররাও প্যারিসে আলোচনায় বসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি ছাড়াই সেটি শেষ হয়।

গত কয়েক মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই পাল্টা-পাল্টি বিমান হামলা আরও জোরদার করেছে।

এর মধ্যেই রাশিয়া তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এতো বেশি বৃদ্ধি করেছে যে, প্রতিহত করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। তারপরও তারা রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো গুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।