Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Bangladesh Nationalist Party-BNP
Published
পড়ার সময়: ৪ মিনিট
বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার এবং চীন হয়ে একটি অর্থনৈতিক করিডোর তৈরির বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর বৈঠকে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
চীন সফরের শেষ দিনে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মি.আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি ‘দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব ও কৌশলগত’ সম্পর্কে রুপ দিতে নতুন একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দুই দেশ।
চীনের স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন দুই নেতা।
এই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি জানান, চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতা ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক হয়েছে।
দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মি. আমিন।
এছাড়া এই সফর ও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে ১৩টি সমঝোতা স্মারক ও ৪টি অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও জানান মি. আমিন।
তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে, সেগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলেচনা হয়েছে।
“সড়ক, ব্রিজ, রেলওয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে চীন আমাদেরকে ‘মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশন ম্যাকানিজম’ তৈরির ক্ষেত্রে সহযোগীতা করতে চায়,” বলেন তিনি।
এছাড়া এই বৈঠক নিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বে সহযোগিতার বিষয়ে জানানো হয়।
দুই দেশএকটি যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর।
গত ২১শে জুন ঢাকা ছাড়ার পর দুই দিনের মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনে যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
ছবির উৎস, PMO
যে-সব বিষয়ে আলোচনা হলো
চীন সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথেও একাধিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এছাড়া চীনের দালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘সামার দাভোস ২০২৬’ সম্মেলনেও অংশ নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি এর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
এই বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বৈঠকে আলোচনা হওয়া নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
মি. আমিন জানান, দুই দেশের শীর্ষ নেতার আলোচনায় ‘পরস্পরের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার’ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, দুই নেতার আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা। এই প্রকল্পের কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া, বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার) অর্থনৈতিক করিডোর, চট্টগ্রাম বন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মি. আমিন।
তিনি জানান, “দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনার ভিত্তিতে ১৬ দফার একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও বড়ো সিদ্ধান্তগুলো জায়গা পেয়েছে।”
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চীনের শিল্প স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মি. আমিন।
উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক, সেতু ও রেলওয়ে অবকাঠামোর পাশাপাশি আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে চীন।
এই সফর ও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে ১৩টি সমঝোতা স্মারক ও ৪টি অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও জানান মি. আমিন।
ছবির উৎস, PMO
এদিকে, এই বৈঠকের পর একটি বিবৃতি দিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যেখানে সম্পর্ক উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সমর্থন এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বের বিষয়ে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিশ্ব পরিস্থিতি যেমনই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মূল লক্ষ্য থেকে বেইজিং কখনও সরে আসবে না। চীন সবসময়ই বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু, সুপ্রতিবেশী এবং ভালো অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।”
এছাড়া চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, সবুজ উন্নয়ন বা গ্রিন ডেভেলপমেন্ট এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সই করা হয়েছে।
এছাড়া বৈঠকে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা বা জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
“আমাদের গ্লোবাল ডেভেলপেন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাৎ যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে। একই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে এক পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে,” সংবাদ সম্মেলনে বলেন মাহদী আমিন।
এছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেও বাংলাদেশের পাশে থাকার বিষয়ে চীন আশ্বস্ত করেছে বলে জানান মি. কবির।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একে অপরকে সমর্থন জানানো এবং বাংলাদেশকে ব্রিকস সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে চীন।
তিন দিনের চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।




