Home RSS national bangla প্রধান বিচারপতির ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের রোস্টার-রায় চাইলেন বিচারপতি ওকা

প্রধান বিচারপতির ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের রোস্টার-রায় চাইলেন বিচারপতি ওকা

6
0

বিচারপতি Abhay S. Oka সুপ্রিম কোর্টে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ রোস্টার ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে বেঞ্চ নির্ধারণে ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI)-এর কোনও ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ থাকবে না। 27 অক্টোবর, 2026 নয়াদিল্লিতে Campaign for Judicial Accountability and Reforms আয়োজিত “Accountability of Judges” শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পদ্ধতি ন্যায্যতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

## বর্তমান রোস্টার ব্যবস্থার সমস্যা

Oka উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান রোস্টার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও অভিন্নতার অভাব রয়েছে। 301 থেকে 306 নম্বর পর্যন্ত বিভাগগুলি—যেগুলিতে বিভিন্ন আইনি বিষয় অন্তর্ভুক্ত—একই সময়ে একাধিক বেঞ্চের কাছে বরাদ্দ করা হয়। ফলে কোনও নির্দিষ্ট মামলা কোথায় শুনানি হবে, তা স্পষ্ট থাকে না। উদাহরণস্বরূপ, পরিবেশ সংক্রান্ত কোনও Special Leave Petition একাধিক বেঞ্চের যে কোনও একটির সামনে যেতে পারে। তাঁর মতে, এই অনিশ্চয়তা রোস্টার ব্যবস্থাকে ত্রুটিপূর্ণ করে তুলেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট বেঞ্চে মামলা বরাদ্দের জন্য কঠোর কোনও পদ্ধতি না থাকায় এই অস্পষ্টতা তৈরি হয়। কোনও বিষয় একাধিক বেঞ্চে পরিচালিত হলে প্রশ্ন ওঠে: মামলাটি কোন বেঞ্চ শুনবে, তা কে নির্ধারণ করবে—CJI না Registry? আর এই প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

## ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ কেন সমস্যাজনক

Oka-এর মতে, বর্তমানে মামলার বরাদ্দের উপর Chief Justice-এর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে—যা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি দুর্বল করে। তিনি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং কিছু High Court-এর উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে প্রশাসনিক ক্ষমতা একজনের হাতে কেন্দ্রীভূত না থেকে কমিটিগুলির মধ্যে ভাগ করা হয়।

তিনি আরও সতর্ক করেন, ক্ষমতা CJI-এর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংস্কৃতি তৈরি হয়। Dr. B.R. Ambedkar-এর “hero-worship” নিয়ে সতর্কবার্তার উল্লেখ করে Oka ইঙ্গিত দেন যে জনমত ও প্রতিষ্ঠানের সুস্থতার স্বার্থে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ কমানো প্রয়োজন।

## নতুন মামলার প্রথম শুনানি বিলম্ব ছাড়াই তালিকাভুক্ত করতে হবে

নতুন দায়ের করা মামলাগুলির প্রথম শুনানি পেতে বিলম্বের বিষয়টিও Oka উল্লেখ করেন। বিভিন্ন High Court-এ প্রক্রিয়া ভিন্ন—কোথাও আদালতের তারিখ পেতে আইনজীবীদের mention দাখিল করতে হয়, আবার তা করলেও সময়মতো মামলা তালিকাভুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা সবসময় থাকে না।

তিনি আহ্বান জানান, নতুন মামলাগুলি যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে—আদর্শভাবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে—তালিকাভুক্ত করা হয়। এতে জবাবদিহি জোরদার হবে এবং মামলাকারীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকতে হবে না।

## Cause List-এ স্বচ্ছতার প্রয়োজন

High Court-গুলিতে cause list—অর্থাৎ শুনানির জন্য নির্ধারিত মামলাগুলির তালিকা—প্রকাশের পর Registry বা বিচারপতিরা যেভাবে ইচ্ছামতো সেই তালিকা সংক্ষিপ্ত করেন, Oka তার সমালোচনা করেন। উদাহরণস্বরূপ, 90টি মামলা নির্ধারিত থাকলেও মাত্র 40টি তালিকাভুক্ত হতে পারে। তাঁর মতে, এইভাবে তালিকা কমিয়ে দেওয়া মামলাকারীদের অসুবিধায় ফেলে এবং প্রশাসকদের অযথা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়।

তিনি স্মরণ করেন, তাঁর নিজের দায়িত্বকালে তিনি একটি কঠোর আদেশ জারি করেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল, কোনও বিচারবিভাগীয় আদেশে কোনও মামলা তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ থাকলে Registry তা তালিকা থেকে সরাতে পারবে না। তাঁর মতে, ন্যায্যতার জন্য এই ধরনের স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি।

## Collegium System: সংরক্ষণ, তবে সংস্কার প্রয়োজন

বিচারপতি Oka বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে collegium system বজায় রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেন, যদি না এর চেয়ে উন্নত কোনও ব্যবস্থা সামনে আসে। অতীতে ভুল হয়েছে স্বীকার করেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, মূল নীতিটি এখনও মৌলিকভাবে সঠিক।

তবে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতাকে একটি দুর্বল দিক হিসেবে চিহ্নিত করেন—শুধু সিদ্ধান্ত প্রকাশের ক্ষেত্রে নয়, সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়, সেই ক্ষেত্রেও। তিনি সতর্ক করেন, বিস্তারিত আলোচনা প্রকাশ্যে আনলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হতে পারে এবং যোগ্য প্রার্থীরা এগিয়ে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

তিনি collegium-এর সুপারিশের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, অনুমোদনে দীর্ঘ বিলম্ব ব্যবস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করে। এই ধরনের বিলম্বের বিষয়ে Bengaluru Advocates’ Association দায়ের করা একটি contempt petition এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

## নজিরের ধারাবাহিকতা ও বিচারবিভাগীয় জবাবদিহি

বিচারপতি Oka জোর দিয়ে বলেন, সমসংখ্যক বিচারপতির বেঞ্চগুলিকে সমপর্যায়ের বেঞ্চের আগের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে হবে—তা না হলে আইনি নিশ্চয়তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, review এবং curative petition বিরল হওয়া উচিত, যাতে এগুলির ব্যতিক্রমী মর্যাদা বজায় থাকে। অধস্তন আদালতগুলিকে সময়সীমা নির্ধারণ করে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাস্তবিক সীমাবদ্ধতার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে তিনি জানান। তিনি স্মরণ করেন, Constitution Bench ইতিমধ্যেই রায় দিয়েছে যে এই ধরনের নির্দেশ ব্যতিক্রমী হওয়া উচিত। তা সত্ত্বেও, বাস্তব পরিস্থিতির প্রতি যথেষ্ট নজর না দিয়েই অন্যান্য স্তরে এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

## সুস্থ সমালোচনাকে উৎসাহিত করা

শেষে বিচারপতি Oka বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্তের যুক্তিনির্ভর সমালোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকদের অসঙ্গত উদ্দেশ্য আরোপ না করে গঠনমূলকভাবে আদালতের রায়ের সমালোচনা করার সুযোগ থাকা উচিত।

তিনি একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার কথা উল্লেখ করেন: সরকারের পক্ষে যাওয়া রায়গুলি প্রায়ই স্বয়ংক্রিয় সমালোচনা ও পক্ষপাতের অভিযোগের জন্ম দেয়, আবার সাহসী রায়গুলিও প্রায়শই বেশি অভিযোগের মুখে পড়ে। বিচারবিভাগকে স্বাধীনতা রক্ষা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে নিতে হবে বলে তিনি জোর দেন।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.