Source : BBC NEWS

দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় লেমন গ্রিন নামের একটি রেস্তোরাঁয় আগুন

ছবির উৎস, ANI

ভারতের রাজধানী দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় লেমন গ্রিন নামের একটি রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় ১০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসন চারজনের মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সতীশ উপাধ্যায় বলেছেন, নিহতের সংখ্যা ২১ জন এবং ৪৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, ভারতের অন্যতম প্রধান জাতীয় রাজনৈতিক দল আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ বলেছেন, “এই আগুনে ২১ জন জীবন্ত পুড়ে মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”

ফায়ার কর্মকর্তা এ কে মালিক সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন যে বুধবার সকাল ৮:৫০ মিনিটে ঘটনার খবর পাওয়া যায়।

তিনি জানান যে এটি একটি বহুতল ভবন। এতে একটি বেসমেন্ট, নিচতলা এবং তার ওপরে পাঁচটি তলা রয়েছে।

তার মতে, “ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা জানতে পেরেছি যে এই ভবনটি কেবল আবাসিক এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল না। মনে হচ্ছে এখানে থাকা অধিকাংশ মানুষই সেইসব রোগীদের আত্মীয় বা পরিচিত ছিলেন, যাদের চিকিৎসা রাস্তার ঠিক সামনে অবস্থিত ম্যাক্স হাসপাতালে চলছিল।”

মালিক জানান, “এখানে থাকা মানুষের মধ্যে বিদেশি নাগরিকরাও ছিলেন। আগুন বেশ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে এটি নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন আমরা ভবনটি পুরোপুরি খালি করে দিয়েছি এবং পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।”

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও), দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর তারণজিৎ সিং সান্ধু।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পিএমও জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

দক্ষিণ দিল্লির দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এসডিএম জিতেন্দ্র কুমার বলেন, “ইমারতের নিচে একটি রেস্তোরাঁ চালানো হচ্ছিল এবং আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে রেস্তোরাঁ থেকেই হয়তো ভবনে আগুন লেগেছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত তথ্য নেই তবে এখন পর্যন্ত চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাত-আটজন আহতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

জিতেন্দ্র কুমার জানান, এই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে সেজন্য এ ধরনের ভবনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মালভিয়া নগরের সাবেক বিধায়ক এবং আম আদমি পার্টির নেতা সোমনাথ ভারতী সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, “বুধবার সকাল আটটায় এই আগুন লেগেছে কারণ এলাকায় তারের জট লেগে রয়েছে।”

তিনি বলেন, “সকাল আটটায় আগুন লাগে। তারের জটলা রয়েছে, যেখান থেকে সম্ভবত শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগেছে। পাশেই একটি হোটেল রয়েছে যেখানে ২০ থেকে ২৫টি রুম আছে। সামনেই ম্যাক্স হাসপাতাল। সেখানে যারা চিকিৎসা করাতে আসেন, তাদের পরিবার এই হোটেলে থাকেন।”

“শর্ট সার্কিট থেকে প্রথমে রান্নাঘরে আগুন লাগে যা উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সামনে একটি লেপ-তোশকের দোকান রয়েছে, সেই দোকানি তার সব লেপ বিছিয়ে দিয়েছিলেন, যার ওপর লাফিয়ে পড়ে মানুষ বাইরে বেরিয়েছেন।”