Source : BBC NEWS

মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি এফ-৩৫ লাইটনিং যুদ্ধবিমান, ২০২৬ সালের এপ্রিলে তোলা ছবি

ছবির উৎস, Getty Images

ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ে নতুন কর ে হামল া চালানোর খবর জানিয়েছ ে মার্কিন সামরিক বাহিনী । ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁট ি এব ং মাইন বসানোর কাজ ে নিয়োজিত থাক া নৌযানগুলোক ে এই হামলায় লক্ষ্যবস্ত ু কর া হয় বল ে দাব ি করেছ ে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিত ে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপট ি ছিল ‘ আত্মরক্ষামূলক’ এব ং এর উদ্দেশ্য ছিল” ইরান ি বাহিনীর পক্ষ থেক ে আস া হুমক ি থেক ে আমাদের সেনাদের রক্ষ া কর া”।

সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিন ী” চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্য ে সংযম বজায় রেখ ে আমাদের বাহিনীক ে রক্ষ া করার কাজ চালিয় ে যাচ্ছ ে”।

এমন এক সময় ে এই হামল া চালানোর কথ া বল া হল ো যখন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গ ে আলোচনায় কিছুট া অগ্রগত ি হয়েছে, তব ে সংঘাত অবসানের কোন ো চুক্ত ি” শিগগিরই হওয়ার সম্ভাবন া নেই”।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন হকিন্স জানিয়েছেন য ে এই হামলাগুল ো বন্দর আব্বাসের কাছাকাছ ি এলাকায় চালান ো হয়েছে।

বন্দর আব্বাস ইরানের একট ি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলীয ় শহর, যেখান ে হরমুজ প্রণালির পাশ ে দেশটির একট ি নৌঘাঁট ি রয়েছে।

এর আগ ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে, বন্দর আব্বাস ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর স্থানীয় কর্মকর্তার া বিষয়ট ি তদন্ত করছেন।

সর্বশেষ এই মার্কিন হামলার বিষয় ে ইরান এখনে া কোন ো প্রতিক্রিয় া জানায়নি । যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্ত ি চুক্তির ওপর এই হামলার প্রভাব ক ী হব ে সেটিও এখন ো অস্পষ্ট।

গেল সপ্তাহের শেষ দিক ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উভয় পক্ষ একট ি চুক্তির কাছাকাছ ি পৌঁছেছে।

তব ে পরবর্তীত ে এই আলোচনার সাথ ে জড়িতদের” তাড়াহুড় ো ন া করার” নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Getty Images

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্র ী মার্ক ো রুবিও বলেছিলেন যে, সোমবারের মধ্য ে একট ি চুক্তিত ে পৌঁছান ো সম্ভব হত ে পারে।

তব ে মি. বাঘাই এর জবাব ে বলেছেন যে,” এট ি বল া ঠিক হব ে য ে আমর া আলোচনার অধীন ে থাক া বড় অংশের বিষয় ে একট ি সিদ্ধান্ত ে পৌঁছেছি । তব ে এর মানেই য ে একট ি চুক্ত ি স্বাক্ষর অবশ্যই হয় ে যাবে- এমন দাব ি কেউ করত ে পার ে না ।”

একট ি সমঝোত া স্মারক নিয় ে আলোচন া চলছে, যার মধ্য ে রয়েছ ে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরত ি বাড়ানো, হরমুজ প্রণাল ি পুনরায় খুল ে দেওয় া এব ং ইরানের পরমাণ ু কর্মসূচ ি নিয় ে পরবর্ত ী আলোচনার পরিকল্পনা।

বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজ জানিয়েছ ে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেত া মোজতব া খামেন ি একট ি গোপন স্থান ে অবস্থান করছেন বল ে মার্কিন গোয়েন্দ া তথ্য ে দাব ি কর া হয়েছে।

যুদ্ধের প্রথম দিন ইসরায়েল ি হামলায় তার বাব া ও পূর্বসূর ি আয়াতোল্লাহ আল ী খামেন ি নিহত হওয়ার সময় মোজতব া নিজেও আহত হয়েছিলেন।

তার অবস্থানের কারণ ে প্রতিনিধিদের সাথ ে যোগাযোগ কর া কঠিন হয় ে পড়েছ ে এব ং এর ফল ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথ ে আলোচনার গত ি ধীর হয় ে গেছ ে বল ে দাব ি কর া হয়েছ ে ওই গোয়েন্দ া তথ্যে।

মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচনাগুলোর মাধ্যম ে তাৎক্ষণিকভাব ে কোন ো চূড়ান্ত মীমাংসায় পৌঁছান ো এখনই সম্ভব হব ে না।

বিতর্কিত বিষয়গুলো, যেমন- ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞ া শিথিল করা, ইরানের জব্দ কর া তহবিল ছেড় ে দেওয় া এব ং ইরানের পরমাণ ু উচ্চাকাঙ্ক্ষ া নিয়ন্ত্রণের বিষয় ে মার্কিন দাবি- এসব বিষয় নিয় ে পরবর্তীত ে আলোচন া হওয়ার সম্ভাবন া রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে তা এখনো অনিশ্চিত

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images

যুদ্ধের শুরুত ে ধারণ া কর া হয়েছিল যে, ইরানের কাছ ে প্রায় ৪৪০ কেজ ি ব া ৯৭০ পাউন্ড ইউরেনিয়াম রয়েছে, য া ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ কর া হয়েছে।

এট ি অস্ত্র তৈরির উপযোগ ী অর্থাৎ ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি, য া তাত্ত্বিকভাব ে একট ি পারমাণবিক বোম া তৈরির পথ প্রশস্ত করত ে পারে।

সোমবার রাত ে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয়” তাৎক্ষণিকভাব ে” যুক্তরাষ্ট্রের কাছ ে হস্তান্তর করত ে হবে, অথব া” ইরান ি প্রজাতন্ত্রের সাথ ে সমন্বয় কর ে ত া সেখানেই ধ্বংস কর ে ফেলত ে হব ে”।

যদিও বড় কোন ো সাফল্যের সম্ভাবন া উড়িয় ে দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা । রয়টার্স জানিয়েছ ে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথ ে সম্ভাব্য চুক্ত ি নিয় ে আলোচনার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্র ী দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সাথ ে বৈঠক ে বসেছেন।

গত আটই এপ্রিল থেক ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ি বাহিন ী যুদ্ধবিরত ি পালন করছে । ইরান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয় ে উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছ ে এব ং মার্কিন নৌবাহিন ী ইরানের বন্দরগুল ো অবরুদ্ধ রাখার চেষ্ট া করছে।

উল্লেখ্য, ২৮শ ে ফেব্রুয়ার ি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান ে বড় ধরনের হামল া চালাল ে মধ্যপ্রাচ্যজুড় ে সংঘাত ছড়িয় ে পড়ে।

যার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল এব ং উপসাগরীয় অঞ্চল ে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরান হামল া চালায় এব ং কার্যকরভাব ে হরমুজ প্রণাল ি বন্ধ কর ে দেয় । এই পদক্ষেপের ফল ে বিশ্ববাজার ে তেলের দাম ব্যাপকভাব ে বেড় ে যায়।